দৈনিক কবিতা আশ্রম · ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পুরনো ওয়েবসাইট থেকে পুনরুদ্ধার করা লেখা। ছবি ও কিছু অংশ শীঘ্রই যুক্ত হবে।

২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

অলংকরণ: অমিত সাহা

পর্ব-১৯

নদীর ধারে ঘর হলে কি হবেক, বাজারে আসতে হয়। হামদের গাঁয়ে কে লিবেক এত লঙ্কা! ই বছর ৩০ কুইন্টাল লঙ্কা হয়েছে। পাইকার লিতে আসে নাই। ভয়ে আসে নাই। যদি করনাতে ধরে! করনা ল ওতন একটা ভূত। কি গাঁ কি শহর সবাই ভূতকে ডরাছে। ই ভূতের নাম আগে শুনি নাই। পেট ও একটা ভূত বঠে। পেট কে কিছু না দিলেই, লাড়ি ভুঁড়ি খেয়ে লিবেক।

আমি হাসতে থাকি। পিঁড়রা-চাকিরবন থেকে সুনীল সিং সর্দার সবজি বাজারে আসে। আগে তেমন আসতো না। কারণটা এই, যেটুকু সবজি-ফলায় সে শহরের পাইকার সুনীলের ঘর থেকে কিনে নিয়ে যায়। ই বছর মরা বছর বাজারকে আসতেই হছে। ১০০ কেজির কাঁচা লঙ্কা কুড়ি টাকা দরে বিকতে হছে। সুনীলের কথায় হাহাকার বাজে। পাশেই উমাকান্ত সিং সর্দার। আমাকে বলে, লিয়ে যাও কাললা ঝিঙা। জানতে চাই কত কিলো। সে বলে, কি দাম দিবে ১০ টাকা করে সব লিয়ে যাও। এত কম! আমার বিস্ময়ে দুজনেই একসঙ্গে বলে, লোকে ভয়-ডরে আসছে নাই। তা বাদে বিহা-সাদি থাকলে দাম পাওয়া যায়। কিছুই তো নাই ই বছর। ভূতে সব খেলো সব খেলো—লদি-লালাও খেয়ে দিবেক। উমাকান্ত আরো বলে, জল তিষটার জল নাই পাওয়াবেক। চাষবাস ত পরে। আগে তো বাঁচি—সুনীল খৈনি টিপতে টিপতে বলে, তোমরা শহরের লোক নাই বুজবে হামদের কষ্ট। সত্যিই বুঝি না আমরা। করোনা হোক আর মরোনা হোক আমরা চাই, সস্তার সবজি। সুনীল ও উমাকান্ত দের জীবন যতই কঠিন হোক, তারা যতই খেটে মরুক, আমি চাই সস্তার সবজি। আমি বাজারে গেলে দরজার করেই কিনতে চাই মাটির ফসল। সেই ফসলে যে ঘাম লেগে আছে, আমি লক্ষ্য করবো না। রোদে পুড়ে সুনীল যে বাজারে এসেছে কাঁচা লঙ্কা নিয়ে, তাকে বলবো না, চলো আমার বাড়িতে জল খেয়ে আসবে। আমাকে চুপচাপ দেখে কি জানি কি ভাবলো সুনীল। আমার দিকে চেয়ে বলে, কাল তুমাকে তরমুজ এনে দিব—খেয়ে দেখবে কি মিষ্টি। বুকটা শীতল হয়ে যাবে।

রোদ বাড়ছে। শেষ হয়ে আসছে বৈশাখ মাস। আর ভাইরাস, কবে শেষ হবে?  কবে?

সুনীলের খৈনি খাওয়া দাঁতের হাসি দেখতে দেখতে ঘরের দিকে যাই।

২২ বৈশাখ, ১৪২৭

১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মন্তব্য করুন