দৈনিক কবিতা আশ্রম · ১০ বৈশাখ, ১৪২৭ নাসিম-এ-আলম শুধুমাত্র তোমাকে তোমার স্কুলের পথ

পুরনো ওয়েবসাইট থেকে পুনরুদ্ধার করা লেখা। ছবি ও কিছু অংশ শীঘ্রই যুক্ত হবে।

 

১০ বৈশাখ, ১৪২৭

 

নাসিম-এ-আলম

শুধুমাত্র তোমাকে

 

তোমার স্কুলের পথ কতদূর?

একদিন যাব চৈত্র পলাশের পথে

পাতার দোলনায় ছুঁয়ে যাওয়া অরণ্যের ঘ্রাণে,

ঘাসে, অতিক্রান্ত বয়সে, অসুখের আরোগ্য চেয়ে যাব।

 

হয়তো এমন সেদিনই তোমার ছুটি

বসন্ত প্রবাস ঘিরে আরও কোনও বিপন্নতা,

আরও কোনও অভিমানে ছুঁয়ে গেছ পাখির শরীর,

ছুটির প্রহর ভালবাসে ভ্রমণ কাহিনি, সুনীলের শ্রেষ্ঠ কবিতা,

 

পৃথিবীর সমস্ত গাছ একই নামে চেনা যায়,

বিবাহ উৎসব জুড়ে সানাইয়ের সুর,

ব্রিজের শরীর ভেঙে উঠে আসে

রবারের চাঁদ,

 

মেহেদি লাগানো হাত, বর্ণপরিচয় ঘিরে স্কুলের দুপুর,

আর কত একা হতে পারো দিদিমণি।

 

 

 

মেঘ অদিতি 

পাখি সিম্ফনি ও ক্যালাইডোস্কোপ 

 

আর কিছু না

তোমার চোখেও আছে সম্পূর্ণ দুপুর

এপ্রিল নামের সন্ধ্যা

অথচ ঈশ্বর জানেন

আকাশ থেকে বিরহ নামলে

কোন অন্ধতায় এখনও

খুঁজে বেড়াই চাবি

 

২

মৃদু হাসি আড়াল করে রেখে গেলে আলো

বসন্ত এলে তোমার জানার বাইরে রইল

ফুল বিক্রেতার চোখ

বন্ধ দরজার ভেতর ভেতর ছড়াল

আলোর ফাঁদ

আমাকে দিলে তুমি বাহারি ক্যালাইডোস্কোপ 

শিখেছ তুমিও কম ছল! 

এবার আমাকে গিলে নিক রঙিন কাচ

মধ্যরাতের বসন্ত উৎসব।

 

 

অমিত সরকার

সমুদ্রসম্ভব              

 

জল খুঁড়তে খুঁড়তে উঠে আসছে গা-গোলানো অন্ধকার  

ফ্যানাদের সমকামীতায় আটকে আছে শ্যাওলা আর অ্যামিবারা  

ঘুম ভাঙছে পোটেমকিনের সিঁড়িতে শুয়ে থাকা মৃত সৈন্যদের     

টাইটানিকের হাড় আর শিরার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে  

কেট ঊইন্সলেটের আধোজাগা আঁখি

আমার ঠাকুরদা সমুদ্রে ডুব দিয়ে তুলে আনছেন  

একের পর এক ড্রাখমার ব্যারেল, অ্যাম্বারগ্রিসের ঘড়া আর   

চেনে বাঁধা নাবিকদের এপিটাফ   

মরচে ধরা নোঙরের পাশ দিয়ে উঁকি মারছে দৈত্য স্কুইডদের জন্মদিন

 

ঢেউয়ের কাঁথাস্টিচ খুলতে খুলতে      

আর হাওয়াদের নোনা রূপকথা চাটতে চাটতে 

দুহাত দিয়ে আমি আগলে রাখছি        

এই গর্ভজলে আমার প্রথম সালোকসংশ্লেষ…

 

 

তুলসীদাস মাইতি

অদৃশ্য সাঁকো

 

সেতু না হোক, অন্তত একটা সাঁকো চাই। পূর্বপুরুষেরর এ চাওয়ার কথা জানে সমস্ত গাঁ। ওপারের  রোদ্দুর  ছুঁয়ে বাঁশির শব্দ, বইহারা  বালকের আনমনা সংগীত -সবই মিশে যায় এপারের স্রোতে। শক্ত বাহু দিয়ে জল ভাঙতে ভাঙতেই আতপ্ত দুপুর। বৈচিকুসুমের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতা। আনত বালিকাটির  সুগভীর কৌতুহল আকাশসমান ঢেউ ভাঙে জলজ শরীরে। চিরায়ত স্বভাবে মিলে যায় দুই পারের অসংযত মেঘ আর ঝড়ের পূর্বাভাস।

 

উপত্যকা জুড়ে গড়ে ওঠে অদৃশ্য সাঁকো।

 

 

রজতকান্তি সিংহচৌধুরী

ইতিহাস 

 

নিঃশ্বাসের মধ্যে কার জ্বর-বিকার লগ্ন, হায়

মৃত্যুমুখ আগন্তুক তাকিয়ে থাকে নিঃসহায়

 

অতিমারীর ভেতরে যায় প্রাণের চলা থমকে কার

সভ্যতার দায় কি থাকে তুচ্ছ কথা মনে রাখার?

 

এ ইতিহাস লিখবে নাকি, কবি, কোথায় কালি কলম?

এই সময় দগ্ধ হয় ভস্মসাৎ মরুৎ ব্যোম

 

স্পর্ধা দেয় কবিকে ঠিক বিশ্বময় দুঃসময়

স্বপ্নময় সেই চোখেই বিলীয়মান মারী প্রলয়

 

পেরিয়ে ঢের দূষণ তবু মানবতাই মরণপণ

শুশ্রূষার যুদ্ধে যায় আনবে না কি নবজীবন?

 

বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়

সহমরণ

আমার পোড়া চাল,তপ্ত উঠোনে একটি চন্দনের গাছ

সিঞ্চনে বেড়ে ওঠে সখ্যতা,প্রেম, আর অলীক সংসার

চারিদিক ম-ম করে সুগন্ধে…জমা হয়  

যত ক্ষোভ, দুঃখ, বেদনা, রোদন আঁচলে তার

                       ছায়া গন্ধে চরাচর স্নিগ্ধ হয়

 

বেঁচে আছি অন্ধকার ডালপালা ছুঁয়ে  শীতল সহবাসে

এক সঙ্গে জ্বলবে ব’লে সে-ও বিস্তারি বহুদিন

                       আমারই পাশে পাশে পাশে     

 

 

 

মন্তব্য করুন