আগে তেল নুন হলুদ বিক্রি করতো। আগে চাল ডাল বিক্রি করতো। আগে বঙ্কিমের ছিল গোলদারি দোকান। বাবা-মা দুজনেই মারা যেতে তিন ভাই আলাদা হয়ে গেল। পৈতৃক ব্যবসা উঠে গেল। মেজ ভাই ও ছোট ভাই শুরু করল চালের ব্যবসা। বঙ্কিম কিছুদিন এখানে-সেখানে ঘুরে ঘুরে এক ধীবরের সঙ্গে মাছের ব্যবসা শুরু করল। পাড়া-প্রতিবেশী বলতে শুরু করল, কি রে বাঁকা বেনে থেকে জেলে হয়ে গেলি! বিকতিস নুন তেল চাল ডাল, এখন বিকছিস মাছ। কোন্ দিন দেখব, বাঁধে জাল ফেলছিস তুই। বঙ্কিম চুপচাপ থাকে। ভাগ্যের ফের। এখন যেমন খিলি পান বিকতে হচ্ছে। মাছের সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেছে। বাইরে থেকে আসছে না, পুরুলিয়ার গাঁ-গেরাম থেকেও আসছে না। যে দু’একজনের কাছে মাছ আসছে, বিক্রি নেই। মাছেও নাকি ভাইরাস। এমনটাই শোনা যাচ্ছে হাটে-বাজারে। লোকে তাই ভয়ে খাচ্ছে না। বঙ্কিম নিজের কপালকে দুষতে থাকে। সামনে কাউকে না পেলেও অদৃশ্য একজনকে বলতে চায়। মনের ভার হালকা করতে চায়। প্রায় লুকানোর মতোই বাজার হাটে টিনের থালায় পান সুপারি খয়ের রেখে, খিলি পান সাজে। ছেলে মেয়ে বউ এবং নিজের পেটেও তো খিদের ভাইরাস আছে। কামড়ায়। দুটো পয়সা রোজগার না করলে, খাবে কী খাওয়াবে কী? বঙ্কিমের খিলি পান বিক্রি দেখে লোকজন বলে, কি বঙ্কিম, তোর পানে কি আঁশের গন্ধ পাবো? তাহলে নিতে পারি ভাই। পান চিবাতে চিবাতে মাছের স্বাদ পেলে মন্দ কি। বঙ্কিমের আঙুলে লেগে থাকা চুন-খয়েরের দাগ কপালে যদি লাগে, কপাল কি রাঙা হয়ে উঠবে? কপাল কি প্রসন্ন হবে?
জীবন-দেবতা কখন কার দিকে যে চেয়ে থাকে, বঙ্কিম জানে না।