দৈনিক কবিতা আশ্রম, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
আবহমান বাংলা ভাষা
দৈনিক
২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ছবি: চন্দন মিশ্র
বন্যা লোহার
হাতছানি
পাথর বন্ধু হলে হোঁচট যতটা নরম হয়
সপ্রতিভ চলার নীচে
ততটা নিরস্ত্র শুয়ে আছি ।
অনির্দিষ্ট নালিশ নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে মোড়গুলি
পার হতে হতে ; পথ
বিরহের গান হয়ে গেছে
তুমি অন্তরঙ্গ সুরটি বেছে নাও ।
তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়
মৌচাক
কতটা বিষাদ প্রিয় হলে
ভ্রমের ভেতর মৌমাছি খেলা করে, জানি না!
কেবল জানি,
কেন এই মৌমাছি ‘ভ্রমর’ হল না!
তবু তর্ক হবে খুব।
টেবিল চাপড়ে তরুণ প্রকাশক বলবেন,
‘এই হল রীতি!’
প্রবীণেরা তাঁর গাল টিপে বলবেন,
‘তুমি তো জানো না পতঙ্গকে
ধরতে গেলেই হুলের খোঁচায় প্রাণ ওষ্ঠাগত…’
এবং, দেখা যাবে,
এই তর্কের মাঝেই এক বিনীত কবি
মৃত্যুর দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে ডানা।
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
প্লাস্টিক প্রেম
তুমি কি মাংসের মানুষ, না কি প্লাস্টিকের?
রোবট সুফিয়াও ভাষা জানে, নাগরিকত্ব পায়!
আর তুমি হারাও মনের মর্যাদা!
সোসাল ডিসটেন্স যখন
মানুষকে অসামাজিক করে দিচ্ছে,
বনের অস্থির হরিণ ছুটে আসছে উঠোনে
আমরা জল ধার করে কাঁদছি, কাঁপছি
তুমি কি ঘুম পাড়ো, ডিম পাড়ো; ডিম ভাজো!
রোম যখন পুড়ছিল
তখন জনগণ তামাশা দেখছিল!
তুমি কি তাদেরই একজন?
শান্তম
অশোকনগর
ভাসিয়ে দাও। ভাসিয়ে দাও ধুলোর আকাশে
মায়ের হাতটি ধরে শিশুটি মেঘ-এ
বাড়িয়ে দিল আঙুল
সবাই ভাবল চাঁদ। ভেঙে ভেঙে বলল গান
যারা ঘর খুঁজে খুঁজে ফেরে
তারা ফিরে আসবে ভেবে মা
গুনগুন করতে করতে, হাসতে হাসতে
গতকাল উঠোনে ছড়িয়ে ছিল ধান
আলসের বিল
অমিতকুমার বিশ্বাস
পর্ব-১২
সেবা
সকাল।
দু-চাকায় বেরিয়ে পড়ব ঘর ছেড়ে ফসলের কাছে, হঠাৎ-ই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি! যাওয়া হল না আর। উপরে চলে এলাম। এর কিছুপরেই আমার পুত্রটির শ্বাসকষ্ট শুরু!
এগারোতে পা রেখে সে বুঝতে শিখেছে অনেক কিছুই। এই পাঁচমাসে মৃত্যুকেও বুঝে ফেলেছে অনেকটাই। ঘটমান অতিমারীর মৃত্যুলক্ষ্মণ প্রচার ও অপপ্রচার-মাধ্যমগুলোর গুঁতোয় জানতে বাকি নেই কারও। আতঙ্ক যেভাবে ছড়াচ্ছে, অসুখ ততটা নয়। এইসব আতঙ্কদিনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের কী হবে, হরিহর?
অগ্নিমিত্র কাঁদছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমাকে জড়িয়ে ধরছে ভয়ে! আমরা ছুটলাম চিকিৎসকের কাছে।
বৃষ্টির উপর রাগ হচ্ছিল খুব। কিন্তু সেই বৃষ্টিটাই আমাকে থামিয়ে উপকার করল এভাবে! কোন ঘটনা কখন যে কী রূপ নেবে আমরা কি তা স্পষ্ট জানতে পারি কখনও?
বৃষ্টি ফিকে হয়ে এসেছে। আমরা ছুটছি।
ছ’বছর বয়সেই ‘ব্রংকাইটিস অ্যাজথামা’ ধরা পড়ে অগ্নিমিত্রের। সর্দি-জ্বর-কাশি হলেই নেবুলাইজারের প্রয়োজন হয়। নইলে নয়। আর এদিকে বিশ্বব্যাপী সদাঘূর্ণায়মান অতিমারীর তিন ডাইনি এই তিন রূপে ধীরে-ধীরে ঢুকে পড়ছে মানবশরীরে।
প্রকৃত প্রস্তাবে, বাবার ভয়টা অবর্ণনীয়।
বাবা মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে পড়ে আছে পথে, ঘুরে-ঘুরে ঠাঁই হয়নি কোথাও—এই ভাইরাল দৃশ্যটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিঘ্ন ঘটাতে বাধ্য! এই দৃশ্য গোটা দেশকে ল্যাংটা করে দিল। তবু ক্ষমতাপায়ীরা ‘ফেক’ প্রসব-যন্ত্রণায় ভুগছে মিডিয়ার সামনে।
‘নাহ্, কিছুই হয়নি’— স্টেথো রেখে চিকিৎসকের সহকারী বললেন। আমরা ফিরে এলাম।
কিন্তু রাতে আবার শ্বাসকষ্ট! এবারে দূরভাষে প্রস্তাবিত ওষুধ নিতে ছোটা!
এবং ফেরা।
এর মাঝেই আমার এই প্রলাপকথন!
জীবন কী অদ্ভুত!
জীবন থেকে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হয় না আর কোনও।
কিংবা সন্তান!
সাহিত্যের মজাটা এইখানেই যে, এখানে প্রলাপ বকা যায়।
এই যে গতকাল রাতে এই বারো পর্বের ধারাবাহিকের একটা পর্ব শেষবারের মতো চোখবুলিয়ে ছেড়ে দেব, ঠিক তখনই বউ বলল, ‘খেয়ে নেও।’ আর খেতে গিয়েই বিপত্তি! খাওয়া হল না, বরং বিষম খেলাম! বিষয়টি ফোবিয়ার পর্যায়ে এখন। ফলে লেখা পাঠালাম গভীর রাতে। ভয়টা তখন কমে এসেছে কিছুটা।
আমি একজন ফোবিয়া-আক্রান্ত মানুষ। বেশ কয়েকটি ফোবিয়া আছে আমার ভিতর। অগত্যা যেটা থেকে আমি ভয়ে কাঁপছি, পালাচ্ছি, লুকোচ্ছি— অন্যের কাছে সেটা সম্পূর্ণ হাস্যকর মনে হতে পারে। এবং হয়ও। আমাকে তো এজন্য টিটকিরি শুনতে হয় শৈশব থেকেই। এই টিটকিরিও প্রভাব আছে মনের উপর, মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। একজন আত্মহত্যা করলে আমরা কত কান্নাকাটি করি, কখনও কখনও তা ন্যাকামির পর্যায়ে পৌঁছে যায়, কিন্তু আত্মহত্যার বেশ আগে সে সামান্য যে আশ্রয় চাইছিল কোথাও, পায়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পায় না, বরং উলটে জোটে এইসব টিটকিরি।
এ-জীবন সরল নয়, বরং বড্ড জটিল— এতটাই জটিল যে, তা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে না মাঝে-মাঝেই। লাইন ও লেংথে থাকে না। ওয়াইড-নো হয়ে যায়।
পণ্ডিতকথা: ‘মানুষ এক রাজনৈতিক পশু।’
একই সঙ্গে যৌন পশুও বটে।
‘পশু’ কথাটিই এখানে উপযুক্ত। মানুষের যৌনাচার নিয়ে চর্চা করলে বোঝা যাবে পশু নেহাত এক শিশু মাত্র। এত গুরুত্বপূর্ণ ও জীবন-নিয়ন্ত্রক একটা বিষয় সমাজে আজও সম্পূর্ণ উপেক্ষিত— এটা ভাবলেই প্রচলিত বোকাদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায় বহুগুন। কিছু মানুষ যৌনতা নিয়ে এমন ভান করে যে, মনে হয় তাদের সন্তান এসেছে বাতাস দ্বারা পরাগসংযোগের মাধ্যমে। এদিকে ‘রাজনীতি’ কথাটি শুনলেই বেশিরভাগই অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবে। অথচ সামান্য এক চায়ের দোকানে রোজই কত লোক মুখ থেকে বোমা মেরে বন্ধুর মাথা উড়িয়ে ঘরে ফেরে রাতে। সেই ঘরও কিন্তু রাজনীতি-মুক্ত নয়। সেখানেও সুবিধে নেবার ‘দলবাজি’ চলছেই। ব্যতিক্রমের কথা হচ্ছে না, ওর নামই তো তাই ব্যতিক্রম।
প্রতিটি মানুষের সরণ-ত্বরণ সবই এই দুই বোধ দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
দেবতা আর দৈত্যের দড়িটানাটানি খেলা!
যেন এসব দৈব! কিন্তু পুরুষকার কোথায় যাবে তবে? মানুষের ইচ্ছেশক্তি কি তবে তুচ্ছ?
এসব তো দীর্ঘ তাত্ত্বিক বিষয়!
এসব নিয়ে অ্যারিস্টোটলবাবু অনেক কিছুই বলেছেন, বকেছেন।
বলেছেন আরও অনেকে।
আর আমি ফলিত-বিষয়ক বোধে আগ্রহবোধ করি খুব।
সে-বিষয়েও আমার বোধ মরুদেশে এক বৃষ্টিকণার মতোই।
শুধু এইটুকু বলবার, একটা ফুটবলের ভিতর ফেঁসে আছে এক লালপিঁপড়ে।
এ-বলের হাওয়া বেরোয় না, কমেও না কখনও।
এই পিঁপড়েটার কাছে অন্য লালপিঁপড়ে-ধারণা হ্যালুসিনেশান মাত্র!
প্রলাপের কথা উঠেছিল। উঠেছিল আত্মহত্যার কথাও।
একবার এক মেয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা ছেড়েছুঁড়ে আত্মহত্যা করব ঠিক করি। কয়েকমাস কেবল ভেবেই গেলাম কীভাবে আত্মহত্যা করা যায়। যশোর রোডের কাছে সমরেশ বালা নামে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক ছিলেন। কেউ বলে হাতুড়ে, কেউ বলে বড় ডাক্তার! ঘুম আসে না বলে ঘুমের ওষুধ চাইলাম। দিলেন না।
আমার ঘুম এল না। ফলে অন্য উপায় খোঁজা।
দ্বিতীয় উপায়টি নিয়ে ‘মক-টেস্ট’ হয়েছিল।
একটুর জন্য ফাইনাল ফেল!
এর মধ্যে একটা ‘যদি’ ঢুকে পড়ে।
ইফ যদি ইজ হয় বাট কিন্তু হোয়াট কী?
সুইসাইড যখন ব্যর্থ, তখন হোমিসাইড হলে কেমন হয়?
একটা বুলেট। একটাই। এফোঁড়-ওফোঁড়!
হ্যাঁ, আমি পিস্তল আনতে গেছিলাম বাগদা। তিনদিন পর ফিরে আসি খালি হাতে। লিখুন। লিখে রাখুন।
ইফ যদি ইজ হয় বাট কিন্তু হোয়াট কী?
সামান্য এদিক-ওদিক, আর তুমি ম্যাকবেথ!
টু বি অর নট টু বি।
সামান্য এদিক-ওদিক, আর তুমি হ্যামলেট!
ইফ যদি ইজ হয় বাট কিন্তু হোয়াট কী?
নাহ্, এরপর আর চেষ্টা করিনি। বরং ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছি। মনোচিকিৎসকের কাছে গেছি। ওষুধ খেয়েছি। ওষুধ খেয়ে ঝিমিয়েছি ছ’মাস।
একদিন ভাবলাম, অনেক হয়েছে, এবারে ঘুরে দাঁড়ানো দরকার!
জীবন এমনই।
এখানে রাম-কাম-বাম-সাম-দাম-দণ্ড-ভেদ সব আসবে।
আর সবটাই খেলতে হবে— হয় ব্যাটে, নয় ছেড়ে।
আমি আশ্রয় নিলাম সাহিত্যের কাছে। একটা পত্রিকা করলাম। দ্বৈপায়ন। ২০০২। প্রলাপ লিখলাম প্রেমিকার উদ্দেশে। এই প্রলাপকথাই মৃত্যুবীজ হয়ে গলায় আটকে ছিল এতদিন।
কিংবা হত্যাবীজ!
সব বেরিয়ে গেলে বড়ই হালকা লাগছিল নিজেকে।
দড়িতে ঝুললে এতটা হালকা লাগত না মাইরি।
২০০৪ পর্যন্ত প্রলাপ বকলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এরপর প্রায় ন’বছর সাহিত্য থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে থাকতে হল।
২০১৩-তে ফেরা হল। উদ্দেশ্য, জমে যাওয়া দীর্ঘ প্রলাপগুলোকে ঝেড়ে ফেলা, নইলে ফের বিপদ!
এই বিরতি নিয়ে আজ আপসোস হয় আমার। কিন্তু এই যে ফিরে এসে প্রলাপগুচ্ছ লিখতে পারছি, বাঁচতে পারছি ঘুরে এসে, শরীর জুড়ে ব্যথা আর বিচ্ছেদ মাখামাখির পর— এটাও বা কম কী?
অগ্নিমিত্রের আবার শ্বাসকষ্ট! গল্পে-গল্পে ঘুম পাড়িয়ে এলাম তাঁকে। ‘সিভ্কা-বুরকা’, রুশী রূপকথা।
কান্না পাচ্ছে আমার।
এখন যদি পরিস্থিতি অন্য দিকে বাঁক নেয়?
ফোবিয়া?
হাসপাতালের বিছানাগুলো প্রায় ফাঁকা! সেখানে যেতে হবে?
আজকের রাতটা বড়ই ভয়ঙ্কর বুঝি-বা!
ভাতের জন্য একটা কাজের দরকার ছিল।
সাহিত্য ছুঁড়ে চাকরির মালা পরলাম গলায়।
অনেক চেষ্টার পর মালাটা খুঁজে পেয়েছিলাম।
মালা তো নয়, দু-চাকার টায়ার!
গলায় পরে ভোম ভোম!
ভাবলাম, জীবনের সব ঝামেলা মিটে গেল।
হা হা হা!
পাগল?
জীবন তো তখন সবে শুরু!
টায়ারটা ফুটো হয়ে গেছে। চারিদিকে খিদে আর খিদে। চারিদিকে বিদ্রোহ, চারিদিকে অবরোধ। ক্ষুধার্ত প্রেতগুলো ছুটে এসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে আমার টায়ারে।
আমার গলায় জ্বলন্ত টায়ার!
ভোম ভোম ভোম!
ইফ যদি ইজ হয় বাট কিন্তু হোয়াট কী?
প্রলাপ প্রলাপ প্রলাপ!
প্রলাপ না-লিখলে আমি পাগল হয়ে যাব।
আমার গলার কাছে কষ্টগুলো এসে শ্বাসনালী চেপে ধরবে।
বাবার শরীরটা ক্রমশ ভেঙে পড়ছে এই দুর্দিনে। অথচ কিছুদিন আগেও চনমনে ঘোড়া!
আমার কান্না পাচ্ছে।
মায়ের হাঁটু ভেঙে পড়ছে হুড়মুড় করে। অথচ ভোর চারটেয় উঠে তাঁর কর্মজীবন শুরু।
মেজদার বিচ্ছেদ চলছে।
বড়দা সংসারেও বিচ্ছেদ-গন্ধ। কখন যে সেখানে কী ঘটে যায়, হরিহর!
ঠিক দু-বছর হয়ে গেল বাবা স্টাম্প দিয়ে মায়ের মাথায় মেরেছিল।
সেদিন থেকে আমার আরও প্রলাপ বকা!
তবে এত এত অন্ধকারের ভিতরও সামান্য আলো, বাবা-মা কথা বলছে, একে-এপরকে সাহায্য করছে, খাইয়ে দিচ্ছে! গত চার দশকে এই প্রথম এমন দৃশ্য মুগ্ধ করল আমায়!
অন্তিম পর্বে এইসব প্রলাপ ছাড়া কী লিখব আর? প্রলাপ ছাড়া কিছুই লিখিনি আজও— জীবনের প্রলাপগুচ্ছ সব। ওইযে, যেসব ফোবিয়ার মধ্যে হেঁটেবেড়াই, লিখি তাও। আমি বেঁচে যাই।
প্রলাপে প্রলাপে পৃথিবীকে শোনাতে চাই বাঁচার গান। আমি জানি একটা মানুষ কখন নিজেকে খুন করতে চায়। আমি জানি একটা মানুষ কখন অন্যকে খুন করতে চায়।
অতিমারী অতিমারী!
কী হবে লিখে?— এ প্রশ্ন সর্বজনীন।
আমার মনে পড়ে যায় ১৯৯৪-এর এক সুন্দর গ্রীষ্মসকাল। আমগাছগুলো তখন আরও সবুজ। চেনা-অচেনা পাখি ডাকছে তাতে। মোরগ ডাকছে আমাদের টিনের চালে। মাইকেল ফ্যারাডের স্যার হামফ্রি ডেভির সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।
আমি নবম শ্রেণিতে তখন। পাঠ্যে ছিল ঘটনাটা।
বই বাধাইকারীর মতো লাভজনক পেশা ছেড়ে ফ্যারাডে বিজ্ঞানী হতে চান জেনে স্যার ডেভি বলেন, চিন্তাটা খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু সে কি ভেবে দেখেছে বিজ্ঞান যা তাঁকে এর বিনিময়ে দেবে তা খুবই নগন্য?
উত্তরটা আপনারা সকলেই জানেন।
বিজ্ঞানের সেবা করতে এসেছিল মাইকেল। বিনিময়ে বিজ্ঞান তাঁকে কী দিল আর কী দিল না সে নিয়ে সে একটুও ভাবিত না।
‘সেবা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এ-জীবনে।
অনেক কষ্টের পর পুত্রটি তাঁর মায়ের সেবায় কিছু আগে ঘুমিয়েছে। আমিও ঘুমোব এখন। আমার মা কিছু পরেই উঠে পড়বে ঘুম থেকে। গোবরছড়া হাতে উঠোনে নেমে পড়বে সেবায়।