দৈনিক কবিতা আশ্রম, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
আবহমান বাংলা ভাষা
দৈনিক
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
বিভাস রায়চৌধুরী
মৌসুমি বায়ুর দেশে
জিজ্ঞেস করি— কাছে আছ সন্তানের?
জীবনে নতুন গাছেদের সংসার
বশীভূত করে?
সময় পাও না, সময় পাও না আর?
পুরনো নদীতে ভেসে আছে ভাঙা চাঁদ…
যেন কোনও উন্মাদ
আমাদের দেয় কান্নার চরাচর…
দিয়েছিল একদিন
আবার সেখানে পৌঁছতে লাগে দম!
মৌসুমী বায়ু পথ চিনে ঠিক আসে…
মানুষ যেখানে পরিযায়ী আর মৃত,
বৃষ্টিই শুধু যোগাযোগ মাধ্যম
মাসুদার রহমান
কবিতা
মেঘ করে এল উত্তর আকাশে; এক খণ্ড মেঘ
ছেলেটি তাকিয়েছিল মেঘের দিকে
হঠাৎ দেখতে পেল- গতকাল হাটে কেনা সবুজ লুঙ্গিটি
কে যেন ঝুলিয়ে ধরে তুলে নিল মেঘের ওপারে
লুঙ্গি তার মেঘের ওপারে কে নিয়ে গেছে
খোঁজ করতে সে বাড়ির দিকে চলে গেল
বটতলায় আমরা দলবেঁধে বসে আছি,
সে এখনও ফিরে আসেনি
সড়কে এক ট্রাক
পাকা ধানের মতো মেয়েটির শরীর ভরা গয়না,
যদিও তা বড় কথা নয়। কথা হল, প্রথম দেখায়
তাকে ভালো লেগেছিল
কে জানত মেয়ে বিবাহিত! স্বামী বেচারা তার
হঠাৎ চলে এল
গৃহস্থের গোলা থেকে নেমে নেওয়া ধান;
ভর্তি ট্রাক সড়ক কাঁপিয়ে চলে যাচ্ছে
অনুপম মুখোপাধ্যায়
রবিবারের বিদঘুটে কবিতা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা জুড়ে দিন বানানো হয়
১টা ছোট টোকা দিলেই খুলে পড়ে যায়
আস্তদিনের দুপরবেলার রোদ
যেন ছেলে হয়েছে আর
তার গলায় মায়ের নাড়ি পেঁচিয়ে বসে যাচ্ছে
ও হো
ধাইমা কেন এত অপদার্থ হল
জীবনের মেঝে জুড়ে টুকরো টাকরা
সেকেন্ড
মিনিট
পল
সারা দিনের পালস রেট ঘেঁটে তখন ঘ
যেন দিনের তখন ভাল নাম দিবস
হো হো the boss
পরের দিনটা নিশ্চয়ই আরো শক্তপোক্ত হবে
উট আর ক্যাংগারুর পার্থক্যের মধ্যে
দেশি মাঠে দেশের ফসল ফলবে
রামছাগলের নাম হবে লম্বকর্ণ তখন
কিন্তু জন্মদিনে বাচ্চাদের ফটো তুলবে কারা
জন্মদিনে বাচ্চাটার ফটো তুলছে যারা
১টা টোকা
যেমন শনিবার
শুক্রবারের সিনেমাহল আঁশটে হয়ে আসে
সিটের তলায় পড়ে থাকে বাসি কন্ডোম
১টা টোকা
যেমন রবিবার
শনিবারের শিকারী কুকুর কালা হয়ে যায়
মালিকের সঙ্গে তখন সমকাম করে
দয়াময় মাহান্তী
হলুদ পাতায় লেখা
মৃত্যু নিশ্চিত জেনে—বেশ কয়েকটা দিন
হাতে পেলে, দীর্ঘ কবিতা লেখা যায়
যে টেলিফোন বহু বহু দিন বাজেনি
তার মুখে কান পেতে, শোনার চেষ্টা করি
সে এখনও কি বেঁচে আছে?
ভালবাসা ঢিলে হয়ে যায় আমিত্বের
কিনারায়—মৃত্যুর মুখে কার মুখ
মনে পড়ে?
প্রতিটি প্রেম আলাদা ঋতুর মতো,
একটি চক্রে বাঁধা নয় যদিও—
কে যে কোথায়, কোন সূত্রে গাঁথা থাকে,
কে হারিয়ে যায়?
রচনাটি সর্বদাই ভুল বাক্যে লেখা
বলে দীর্ঘতম রাতের সুবিধা অনেক—
যৌনতার তাগিদ ফুরালে,
জেগে উঠে চড়া, চাঁদ থেকে তখনও কি
পরী নামে?
বয়সের ভারে মানুষ ফের তাই বালক হয়,
যে গল্প যোনিরসে ভাসে না, তাকে তুলে নিতে
রাত নামে কাহিনি হাতে—
অস্থির বালিকারা পরিযায়ী সব গল্পের
একে একে যদি আসে—
মুমূর্ষুর স্থিরতায় কত যে কথা আছে
হলুদ পাতায় লেখা, শান্ত হয়ে পাথরের বুকে
তবুও কি প্রত্যাশাহীন?
মৃত্যু নিশ্চিত জেনে—বেশ কয়েকটা দিন
হাতে পেলে, দীর্ঘ কবিতা লেখা যায়
এমন প্রত্যাশায়, ডেডলাইনে কাদের ভাষা
শুনতে চেয়ে এখনও
রাত্রি তারায় তারায় সংকেত পাঠায়?
সঙ্ঘমিত্রা হালদার
বুনোফুল
আমাদের যাবতীয় ভানকে হারাকিরি ক’রে
একটি ও সমগ্র বুনোফুল, এত
সরল আর উদ্ধত ফুটে আছে
তাকে কোনও বাঁধানো ফটোফ্রেম নেবে না জীবনে
ঘরে এসে কেবল আমার করে নেওয়া লোকলৌকিকতা নেবে না
আমাদের যাবতীয় ভানের উপর চোখ মটকে সজোরে ফুটছে
একটা বুনোফুল, তার কবিসভা নেই, কোনও হা হুতাশ নেই
অর্থহীন বেঁচে নেওয়ার দম
রেখেছ নিজের করে হে বুনোপ্রতাপ
বহতা অংশুমালী
কবিতা
তোমার মনের খাপে খুঁজেছি আমার মুকুতার
বালুকণাগুলি
ভেবেছি বেদনা দিয়ে উপচারটুকু
গুছিয়ে রেখেছ
আমায় এমনি ফেলে যাওনি সড়কে হাহাকারে
হাঁটুজ্বলা নুনছালে, শেষরাতে রাস্তার হাতে
আমাকে একাকী ফেলে যাওনি, অদৃশ্য প্রহরায়
মুখ উঁচু করে কাঁদা কুকুর রেখেছ
তোমার মনের খাপ নিদুলির চোরাগলি ঘুরে
ইটের প্রাসাদটায় অকস্মাৎ খুঁজে পেয়ে গেছি
চূড়ান্ত আঘাতের ঠিক আগে স্বপ্ন ভেঙে যায়
যেন না জাগালে সব হারানোকে ফিরে পাওয়া যেত
তোমার ক্রিকেট ব্যাটে, তোমার গোপন চিঠিটায়
যেন তার মুখ মুছে, আমার ছায়াকে এঁকে দিত
জানালার নারিকেল পাতা ও গ্রামের সুপবন
ষড়যন্ত্রে প্রবল সামিল
তোমার মনের খাপে সুবিশুদ্ধ ভুলে যাওয়া ছিল
ছিল ‘নয়, কিছু নয়’। বেদনার ছত্রাকটুকু
রোদ পেয়ে শুকিয়েছে, অবাক হাসির রোদ পেয়ে
চোখ থেকে ফেলে দেব চিরন্তন পুতুল খেলার
অজস্র পুঁতিকে
মঞ্জরী গোস্বামী
আত্মরতি
ওই ভাবে সূর্য হয়ে গেলে,
লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে
আটকে দাঁড়াব এক ছায়া…
থর সাহারার বুকে বেপরোয়া কাঁটা ঝোপ হয়ে।
রোদ আরও খর রোদ,
পুড়ে পুড়ে সব আর্দ্রতা
তীক্ষ্ম শূলের সাজে নেমে এল মহিষমর্দিনী।
কেড়ে নাও ঘামতেল
ডাকের সাজের রমণীয় ঢাল।
অনন্তের হু হু চরাচরে
ও পুরুষ, আমি মহাকাল।
মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়
কবিতা
দুটো-চারটে জলপ্রপাত পেরিয়ে
সে শান্ত একটা ডোবার কাছে এসে বসেছে।
সেখানেও জল
গভীর
অতল
সময়ের অচল বহমানতা
কোনও উচ্ছ্বাসের ডাক নেই
স্তিমিত
গরল
তবুও সে প্রকট সাড়া দেয়
ডুবতে চাইলে নির্ভরযোগ্য বন্ধু হতে পারে…