আবহমান বাংলা ভাষা

দৈনিক

৫ আষাঢ় ১৪২৭

David Boxer

নাসিম-এ-আলম

শবের ওপর উৎসব

উৎসর্গ: শঙ্খ ঘোষ

 

মন নেই উড়ে গেছে

শরীর ভর্তি বিবাহ নিয়ে উড়ে গেছে

চিলেকোঠা পেরিয়ে জলে ভাসা খড়কুটো হয়ে

আবহমান মাটির টানে এইখানে নোয়ানো সংসার

কেউ জানতে পারবে না, কিংবা জানতেও যদি পারে

তারও বেশি যোগ বিয়োগ, আরও বেশি গুণভাগে

উদ্বাস্তু শিবিরে হাজার দুয়ার খুলে যাবে…

 

গৃহহীন বিবাহে আয়োজন অসামান্য

অচেনা পরিজন চারিদিকে, গলায় রুদ্রাক্ষ সবাকার

তাঁবুর হালকা আড়াল, সলজ্জ প্রতিভায় দূর থেকে

ভেসে আসে পাহাড়ী লোকগান, সনাতন অভ্যাসে

চাঁদ ওঠে, বুনো মোরগ ঝলসানো হচ্ছে যেখানে

তার পাশে সমাধি ফলকগুলি ম্রিয়মাণ, আর-

 

মৃতমানুষের চোখে ভরে গেছে বিস্তৃত তৃণভূমি

আমাদের শব্দের ওপর, শবের ওপর

উৎসব শুরু হবে মাঝরাতে

শব্দের ওপর তাই শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে।

 

 

অর্ঘ্যকমল পাত্র

ভাইরাল

অথচ আমার এখন উচিত

নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।

উচিত একটা দেশলাইবাক্সে বসে 

           আপামর জ্যোৎস্নাযাপন

 

এই যে বছর আঠারোর মন খারাপ নিয়ে

মেয়েটি তার স্ট্যাটাসে ছড়িয়ে দিল আমায়

 

এবং আমি লাটাইয়ে নিজেকে

গুটোতে শুরু করলেও

 

আমার কিন্তু ওড়ার কথাই মনে হয়েছিল

মুহূর্তের জন্য

এ কে এম আব্দুল্লাহ

লোডশেডিং

পকেটের ভেতর থেকে 

উঠে এলে দীর্ঘশ্বাস

তিন টুকরো ইটের চুলোয় 

খড়ের আগুনে পুড়ে দৃষ্টিগুলো। 

আর চামড়ার ভেতর শুরু হয়

শুকনো হাড্ডির ঝটিকা মিছিল। 

 

এরপর প্রতিদিন 

কবরের পাশ দিয়ে 

হেঁটে হেঁটে যাই শহরের দিকে। 

প্রতিদিন ফিরে আসি 

খালি হাতে 

দীর্ঘ লাইনের পেছন থেকে। 

 

এখন শিশুবেলার মতো, কেবল 

স্মরণ করছি কিছু পবিত্র আয়াত।

 

সুমিতাভ মণ্ডল

বর্ষা

পাতার কিনারে জলছাপটুকু থাকে।

একদিন মঞ্জুরিবৃন্তে একটা টলটলে দীঘি—

কেটে ছেঁটে লতাপাতা ভেদ করা;

শেওলা সরিয়ে, ছটার অবগাহনে

চমকে উঠেছিল সবুজ।

মায়ামাখা শিশুমুখ দোল খেতে খেতে

শুনেছিল আর্তের টিয়াগানে— মা।

 

আলের ঘাসে ঘাসে, চাষির ওম টুকু থাকে।

একদিন চকচকে চোখে, দু’দানা শস্যকে কোলে—

নবান্নের আত্মীয় দুয়ারে এসে বলেছিল;

          ভালো আছি তালপাতা পাখা,

                    ভালো আছি জলের কলস।

ডুব দিয়ে মাছেদের জলে, রোদন ধুয়েছি স্নানে

                 কিছুক্ষণ পাশে বসে ভাত বেড়ে দাও।

বারো পর্বের ধারাবাহিক

পাগলাঝোরা

জয়ন্ত দে

পর্ব-৫

করোনা করোনা

ছেলে ফিরল বিলেত থেকে। এ-পকেটে ভাইরাস। ও-পকেটে ওষুধ। 

ছেলে এসে নাক ঝেড়ে মাকে ভাইরাস দিল। 

ছেনাল মা গামলা ভরে সেই ভাইরাস হেব্বি হেব্বি লোকদের বিলাল। 

হেব্বি হেব্বিরা যখন ভাইরাস গিলে কেলিয়ে কঁ কঁ করচে, মা আর ছেলে তখন ও-পকেট থেকে ওষুধ বের করে কপাকপ খাচ্চে, আর এ-পকেটে ওষুধ কোম্পানির গোপন ডিলের ঘপাঘপ ডলার ঢুকচে। 

পাশাপাশি, যারা করে কম্মে নিতে পারে, তারা হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন। আলু থেকে হরি দিন তো গেল, সব ব্ল্যাকে বেচে দিল।

তারা হাঁকচে: করোনা করোনা খানা খাজানা!

ভদ্রলোকেরা ভাবল, সাধু-সন্ন্যাসীরা নামবে। 

তাঁরা বলল, ওটি হবে না। 

মন্ত্র আওড়াল: 

করিনা করিনা ক্লিভেজও দেখি না!

অগত্যা 

পাঁচু পাবলিকরা বন্ধ দেবালয়ে হাঁটু মুড়ে প্রার্থনায়:

          দূর হটো মাস্ক

          আমার সন্তান করুক

          চকাস! চকাস!

সব দেখে ফ্যাতাড়ু বলচে—

              চারদিকে ঠগ ও ছেনাল

              বুনিয়াছে শত মায়াজাল!

 

বিগত দিনগুলি পড়ুন