যতই ডাক, আর শুনবো নাই। বেলা ডুবে গেছে। সারাদিন ভাটায় কাজ করে পেরে উঠছি না আর। মাথায় ইঁট বইতে বইতে মাথাটা চেপটে যাবেকেই। আজ হোক আর কাল হোক, মাথাটা ফেটে ছিৎ-ছাতুর। যতই ডাক, নাই ডাঁড়াবো। পেমি পেমি করলেই হবেক! ঘরে গেলে কি ঘুমাবো? ঢের কাম আছে। ভাত ত ফুটাতেই হবেক। বুড়া বসে আছে। এৎদিন ঘরেই ছিলম, ভাটা বন্ধ হয়ে গেছলো। বাপের কালে শুনি নাই, দেশে নকি মরণ রোগ এসেছে, সবকে মরাবেক। সবকে। পুলিশে বলেও গেল একদিন, ঘর থেকে বাহরানো যাবেক নাই। ইটা কি রকম কথা! বাঁধটা কী ঘরকে আসবেক? সারা দিনে দু বার যেতেই হবেক বাঁধ ধারে। মুখেও বাঁধতে হবেক কাপড়। বেটাতেও বললো, মুখে একটা গামছা বেঁধে লে। নাইলে বিপদ। ঝকমারি। ঝকমারি। হাত ত হামদের ফাঁকাই থাকে, তারপরে আবার বন্ধ হয়ে গেল ভাটা। গাঁয়ে ত আর দকান নাই। ধার-উধার পাবো। হামদের যাঁতে হয় আনাড়া। হাট-বাজার করতে। মরণ রোগের জ্বালায়, ঘরে কিছুই ছিল না। শুধু মাড়ভাত। কোনো কোনো দিন চাল সিজা। আর শাগপাত পেলে, তাও সিজাই ভাতের সাথে।
নলকূপ একটাই। গাঁয়ের ভিড় একেই জায়গাতে। ইদকে বলে গেল, একসঙ্গে থাকা যাবেক নাই। যদি কারু গা ঘেঁষা যাবেক নাই, তাইলে আরো নলকূপ করাই দে। কবে থেকে দেখছি, একটা নলকূপ থেকেই, খাবার জল সবাইকে লিতে হয়। এতনা দিন বাদে ভাটা যদি খুলল, মুখে লাগায় রাখতে হবেক কাপড়। মুখোশের পারা। তা বিকতে এসেছিল এক ছেলা। সাইকেল করে। তারও কতনা দাম! ভাটাতে কাম করতে এসে দেখছি, মালিক বলছে, মুখে সবসময় কাপড় বেঁধে রাখো। কেউ কারুর সাথে গা ঘেঁষে কাজ করো না। ইতো মহা ব্যাজ। আমি একাই কামিন, আর ত কেউ আসছে নাই। মরদ গুলার সাথে সব কথা বলতে লাজ লাগে। কে জানে কবকে লকডাউন ন লোকডাউন শেষাবেক! মুখে বাঁধা কাপড়টা খুলতে পারবো। শ্বাস লিতে পারবো। শ্বাস যেদিন লিব, সেই দিন যত ইচ্ছা ডাকবি; পেমি পেমি করে…