আমাকে কিছু দিতে হবে না বললে কি হয়? দিতে তো হবেই। সবাইকে দেব আর তোকে দেব না একি হয়? এই তো আমি পেয়ে গেছি শিউলি ফুল। অপরাজিতা। কাশের বন। এই তো আমার উৎসব। উপহার। আমি তো নিয়েছি প্রকৃতির কাছে। সারাবছর নিয়ে যাই। ফুটিফাটা মাঠ থেকে শ্রাবণের ভেজা মাটি। বসন্তের পলাশ থেকে হেমন্তের ধান কাটা জমি। আগুন পোহানো শীত আমি নিয়েই থাকি। আর তুই আমার কাছ থেকে কিছুই নিবি না?
আমি জানি, তোর অনেক কিছু আছে। কত কত ভালোবাসার রত্ন। আমি ছুঁতেই পারি না। তারপরও তোকে দেবার মত সাহস আমার থাকা উচিত ছিল না। তবুও দিতে চাই। তোর ইচ্ছে মত কিছু নিতে পারিস। কিন্তু তুই কিছুই বলছিস না। এই নীরবতাকে ভয় করে আমার। সারাজীবন ভয় ভয় করেই কেটে গেল। আরও ভয় করব? কেন ভয় করব? কখনোই চুরি করিনি ধুলোবালি। লুকিয়ে দেখতে চাইনি পাখির মিলন। নবীন পাতা যখন নবীনের কাছে যায় তখন আমি কী উঁকিঝুঁকি মারি? আতার কাঁচা রঙ পাকা রঙের দিকে গেলে আমি লক্ষ্য করি না। আমার লক্ষ্য, প্রজাপতি রঙ ছড়াচ্ছে কোথায়। তুইও তো রঙ ছড়ানো রাস্তায় ছুটছিস। তোকে ধরা যাচ্ছে না। আজ তোকে বলতেই হবে, কী পছন্দ তোর? তুই যদি বলিস, আমাকে করতে হবে একটাই কাজ, ধুলোর সঙ্গে মেশাতে হবে বালি, আমি করতেই পারি। তুই যদি বলিস, তোর লাগবে একটা বড় দরজা, আমি দিতেই পারি। কিন্তু তুই কিছুই বলছিস না। কেউ কিছু চাইলে, মনে হয় আমার তো কিছুই দেবার নেই। সবকিছুই তো আছে। তারপরই মনে হয়, যে আমার কাছে চাইছে, তার মন অনেক বড় বলেই চাইছে। তখনই আমি অস্থির হয়ে উঠি—আমিতো চিরকালের ভিখিরি। আমি কী দিতে পারি? দিতে পারিও। ভিক্ষে করেই সব কিছু দিতে পারি।
তোর বাইক ছুটছে। পিছনে ছুটছে আমার মন। দুপাশে ঘরবাড়ি গাছপালা মাঠ ঘাট। পুকুর। গাই গরু ছাগল ভেড়া। কোথাও কোথাও গাছ তলায় শুয়ে থাকা বাগাল। এবং বাগালের লাঠির পাশে শুয়ে থাকা এক টুকরো ছায়া। বাইক দেখছে না। বাইক তার আপন গতিতে ছুটছে সামনের দিকে। কে আছে? আমি বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ি। ব্রেক কষে। একটিও কথা বলে না। আমার যেটুকু বলবার বলে, চলে যাব তাল তলে।
তুই তো কিছুই বললি না কি চাইছিস— আমার যা দেবার তোকে বলছি এইবার—তোকে একটা নদী দেব। উৎসবের উপহার এর চেয়ে ভাল হয় কি?
এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আমাদের প্রকাশিত বইগুলি। ভিজিট করুন আমাদের অনলাইন সপ, আর কিনুন আমাদের বই। নিচের BUY NOW বোতামে ক্লিক/ট্যাপ করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের সপ পেজে।