এবার কি তবে দৌড় মহাজাগতিক অশ্বখুরে
প্রিয় ধ্বনির জন্য কান্না তো ফুরোবে না শম্ভুদা
জলে ভাসে কার ছবি? আকাশের নিভৃত ভেলায়?
আকাশ–পর্যটনে তুমি তো জানো, জেনেছো আজ
শান্তিনিবাস এক ঘৃণ্য হট্টবাস, শিকারী–চোখের বর্শা,
ব্রাত্য তোমার মানচিত্র, বিসর্জনের কাদায় কলু্ষিত।
জানি না কী দোষ করেছি আমি
সর্প দংশনে মৃত হয়ে উজানে
ভেলায় ভাসছি গাঙুরের জলে
অলৌকিকের সন্ধানে ।
আমারা কেউ চাঁদ বণিকের মতো
মনসাকে ফেরাইনি কোনোকালে
তবে কার অভিশাপে বারে বারে
একে একে কে আগুন জ্বালে!
ভালোবাসাকে ভালোবেসে করেছি পুজো
মনে তো পড়ে না অন্তর্যামী
কারো অশ্রু জলের
আমি হয়েছি আসামী!
আমার বেহুলা আজও ভাবে
নিতাই ধোবানির ঘাট পাবে
গাঙুরের জল ছেড়ে
স্বর্গের পথ পাবে।
নীরবে ঝরে যাওয়া কলকে ফুল
দিঘির কোল ঘেঁষে লুটিয়ে পড়ে
হৃদয়ে পুরাতন কোন্ ব্যথার
স্মৃতিতে উন্মীল অঝোর ঝরে
সবুজ ঘাসে ম্রিয়মাণ হলুদ
কলমিলতা ঘেরা ঘাটতলায়
মৃত্যু অচানক মূক ভাসে
হৃদয় নিঃসাড় সেই ব্যথায়
অতলে কালবোস ঘাই মারে
স্মৃতির জল দোলে ছলাৎ ছল
দিঘির বুক জুড়ে মুখ তোলে
হারানো সরপুঁটি মাছের দল।
ঠোঁট যেন সেই বন্দর, যেখানে
প্রতিদিন চড়াই উতরাই ভেঙে জাহাজ
ক্লান্তি মুছতে আসে।
দুই
যা কিছু আঁকা-লেখা ঠোঁটে হোক।
শিল্পীর কাজ যাতে নড়ে না যায়
শান্ত ক্যানভাসে দাঁড়িয়ে থাকব,
বলেছিল মেয়েটি।
চুপ চুপ! আর কোনও কথা নয়।
তিন
ঠোঁট বলেছিল, ‘এখানে জাহাজ ভেড়াও।
কিন্তু সন্তান দিও না’
অন্ধকার ডোবা ফুটপাতে
কাঁপা গলায় শুনেছিলাম।
‘মনে থাকবে তো সোনা!’
বৃষ্টি ও বাস্তু-র মধ্যে
ব্যবধান আছে কিনা নেই
থাকলেও কতটুকু তুমি আমি বুঝে নিইনি
সেইসব গ্রীষ্ম অবকাশে –
সিকি আধুলির ঘেরাটোপে
তেল নুন চালের চালানে।
বৃষ্টি আসে বৃষ্টি থেমে যায়,
পাতায় পাতায় ঘুম জোনাকির ঘরে ঘরে ঘুম।
বৃষ্টি ও বাস্তু-র গল্পে শেষ অবধি সন্ধে গড়ায় …
মেঘের আড়ালে চাঁদ,
উঁকি দিলে তুমি দেখো
ভেসে আছে আধুলি-র ধাঁচ
ধাতব সিকি-টি ছাড়া
আমি কিছু দেখতেই পাই না
টাটকা ভোরের গন্ধ এখন আর তেমন
নাকে আসে না,
আগে স্কুলের টিফিন ছিল
অফিসের ভাত ছিল
ছিল ছাত্র পড়ানোর তাড়া,
এখন সবকিছই এই দুকামড়ার লকারে,
তাই সপ্তম ঘটিকার গনগনে সূর্যকেই
রসিকতা ক’রে প্রভাতী শুভেচ্ছা জানাই,
তাতে কারই বা কি এল গেল!!
আগে একটা বাজলেই বাসনের
এঁটোত্ব ঘুচে যেত,
এখন বিকেল চারটেতেও পাতে শুক্ত পড়ে
বিকেলগুলো হোঁচট খায় সন্ধের চৌকাঠে
পরিশেষে সন্ধে ও রাত্রির সন্ধিবদ্ধ যাপনেই
মিলিয়ে দেয় চব্বিশ ঘণ্টার সমীকরণ।
যেভাবেই হোক কেয়ার ইন টাইমে
ভুল নেই কোথাও,
আসলে ভুলচুক সব আড়াল হয়ে যায়
কখনো সন্তান বাৎসল্যে, বা
কখনো দাম্পত্য কলহে,
পার হয় গোটা একটা দিন,
হয়তো সবটাই সম্ভব হচ্ছে পারিবারিক
আইসোলেশনের গুণে।
হে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না
আমায় দোতারা শোনাও
অন্তরে ভরে দাও মিলনের সুর
স্নিগ্ধ জুঁই গন্ধে জেগে থাকা রাত
প্রলেপ জোগাও বিষাদের ক্ষতেক হৃদয়ে
ঢেলে যেও সুর বিভেদের বুকে
রজনী মালার মতো জুড়ে দিও ভিন্ন দুই মুখ
রোপন করো সুগন্ধ গাছ
শরীর জুড়িয়ে যাক প্রাণবায়ু নিয়ে।
আমার গাছেরা মরে গেছে
এখন শুকনো মাটিতেই জল দিই,
যদি কোনও বীজ চাপা থাকে
বিক্ষত গভীরে
একদিন চরম প্রতিশোধ নেবে
সবুজে সবুজে
যে মথটি ডিম পেড়েছে আমার দরজায়
রাত্রির মতো তার রং! সে আমাকে
এমন এক সুড়ঙ্গের মধ্যে নিয়ে এসেছে
যার শেষ দেখা যায় না।
সে কি কোনো অন্তিমের বার্তা
অথবা এক নতুন সূচনা নিয়ে এসেছে।
ভাবতে ভাবতে দেখি প্রাচীন এক
টিকটিকি অতি সতর্ক ভাবে এগিয়ে আসছে
দেওয়াল বেয়ে।
কবিতার জন্ম থেকে বিষণ্ণ এমন এক হাওয়া
আমাকে দ্রাবিত করে,
অক্ষর গলে যায় অপরাধবোধে বা মায়ায়
যে কটি শব্দ নিয়ে হুঙ্কার, পাড়া-প্রতিবেশী,
সচকিত ঘরদোর;
আস্ফালন মণ্ডূকসদৃশ!
শ্রাবণ-কন্যা এসে ধুয়ে দেয় ঘোর….
অক্ষর গলে যায় লজ্জা বা অনুশোচনায়
আবার কুড়িয়ে নিই; ভিজে যাব? তা হোক তা হোক
তবুও জমাতে হবে, এই ভেবে ডুব দিই, আর
মাটি খুঁড়ে ভরে উঠি অপরাধে, ভরশূন্যতায়!
এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আমাদের প্রকাশিত বইগুলি। ভিজিট করুন আমাদের অনলাইন সপ, আর কিনুন আমাদের বই। নিচের BUY NOW বোতামে ক্লিক/ট্যাপ করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের সপ পেজে।
Basket