সাপ্তাহিক

৩ আশ্বিন ১৪২৭

Paintings: Tyeb Mehta

জলধি হালদার

স্মৃতির কবিতা

ফিরে যাওয়ার পথে অনেক পাথর দেখি 

স্মৃতির কাছে ফিরতে গিয়ে 

অনেকবার মুখ থুবড়ে পড়েছি 

 

জন্মভিটেয় ফিরে মানসে এঁকে রাখা 

সব ভেঙেচুরে গিয়েছিল 

 

হাতড়ে হাতড়ে যেদিন তোমার কাছে ফিরি 

দেখি নির্জনে 

আজও একটি হৃদয় পড়ে আছে 

এখনও পড়ে আছে তোমার স্তনের বিভাস 

 

ফেলে আসা পাপ ও পুণ্যকে ঘৃণা করি 

যদি কখনও আততায়ী হই 

অকুস্থলে ফিরব না কোনওদিন

 

পৌষালী চক্রবর্তী

পরিযায়ী

যে পথ চলে গেছে শরৎ মেঘ ও কাশগুচ্ছের দিকে

তার শেষে কামরাঙা বিক্রি করে বিন্তির মা,

 

ওখানে কোনো আগমনী শুনিনি ।

 

 

যেসব দুপুর গড়ানে ফুলে আমাদের বিলাসিতা 

তার সাথে কোনো সাঁট নেই বিন্তির মা’র

তার তোবড়ানো শরীর আর

বিড়ি জ্বালানো হাতের মুঠোয় দাউ দাউ করছে দেশ

 

আর খিদে পেটে ঐ পথে নেতিয়ে পড়া বিন্তি ওর নাতনি।

 

রেলপথে ঘুমিয়ে পরা পরিযায়ী ছেলের মেয়ে।

 

 

মৌসুমী ভৌমিক

বিলাপ

এই যে নির্জন পাহাড়তলি, নির্জন সম্ভ্রম 

অনন্ত শান্ত ঢেউ নিয়ে যার বসত 

অযুত স্নিগ্ধতা, অথচ কঠোর শরীর 

তার আয়নায় প্রদক্ষিণ করতে করতে 

কেটে যায় কত বৈরাগী বেলা 

 

নির্জনতার নিজস্ব বৈভবে মাথা নুইয়ে 

বসে থাকি, নিজের সাথে 

নিজেরই আলাপন 

নির্জন গর্জনে ভুলে যাই 

আমারই অস্তিত্ব…

দিগন্ত ফিসফিসিয়ে ওঠে 

ভাষাহীন আমি পড়ে থাকি 

অবুঝ সংসার বয়ে যায় ম্লান গোধূলিবেলায়

বর্ণহীন আলো আঁধারে।

 

ক্রমাগত ভেসে যেতে থাকে 

জ্ঞানের অহং, আমিত্বের উজ্জলতা 

দীপহীন শিখা মিটমিট করে 

অসীমের অনন্ত আহ্বানে

ক্রমশ নিঃশেষিত কপোত 

গেয়ে যায় চরৈবেতি গান

কী সাধ্য তার 

লিখে রাখে রক্তের সোহাগ 

শূন্যতা মেখে বৈরাগ্য মেখে 

তার যে অসার সংসার 

প্রবল জীবন মাঝে 

অশরীরী, মৃত্যুপিয়াসী প্রাণ ।

 

নির্জন প্রেমিকের এই বিলাপ

ছিন্নভিন্ন করে দেয় তার বসত 

উড়তে উড়তে ছিঁড়ে দেয় তার যন্ত্রণা 

বেহাগ বাজিয়ে ধরে রাখে সম্ভ্রম 

বালুকাবেলার আনত আগুনে 

নিজে থেকে পুড়িয়ে নেয় নিজেকে 

বিধ্বস্ত হতে হতে 

থেমে যায় প্রলাপ

আসলে, জীবন তো বিলাপেরই নামান্তর।

 

নির্জন এর নিজস্ব বৈভবেও আগুন আছে

শান্ত সমাহিত করার আগুন 

শুদ্ধতার আঁচ নিয়ে জেগে থাকে অষ্টপ্রহর

 

অনন্ত ঢেউ যতক্ষণ না ডুবিয়ে দেয় 

আনত প্রাণ ভেঙে ভেঙে থাকে বেঁচে 

আঁকড়ে ধরে শব্দহীন নিবিড় আহ্বানকে

নিস্তব্ধ আলিঙ্গনে কতবার বলে 

‘জেগে আছি –

আছি জেগে’

 

দিগন্তে আলো জ্বেলে মুখরিত হয় মেঘ, আকাশ…

 

 

অনিকেশ দাশগুপ্ত

অ্যানাস্থেসিয়ার পরের রাত

হাঁটু মুড়ে শুয়ে, বালি ও ভেজা দস্তানাকে বাধ্য করা হবে

যেন সেলাই আর পরবর্তী সেলাইয়ে লাল চর্বি আরও নিবিড় হয়…

 

এইজন্য একা একটানা সাদা বিছানা থেকে নামতে পারে কেউ

সাদা কাচের ঘরে একে অপরের মুখ চেয়ে ব’সে থাকতে থাকতে

দাগে দাগে বিশৃঙ্খল শেষ মুহূর্ত 

আরেক চিরাচরিত করমর্দনের জন্য জাগে, হাত বাড়ায়…

 

দূরে পাহাড়ী নদীতে এক হলদেটে হরিণী ধুয়ে নিচ্ছে 

লাল চর্বির পোষাক, সেলাই যাতে আরও নিবিড় হয় ।

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়ের আকাশ

বর্ষার সময়টুকু যতই পালটে যাক
বৃষ্টির হৃদয় জানি মায়ের আকাশ…

যখন-যতবার আসো, একটু একটু করে
শুশ্রূষা গলে পড়ে
                পাতায় পাতায়…

Paintings: Pablo Picasso

পূর্ববর্তী সংখ্যা

এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আমাদের প্রকাশিত বইগুলি। ভিজিট করুন আমাদের অনলাইন সপ, আর কিনুন আমাদের বই। নিচের BUY NOW বোতামে ক্লিক/ট্যাপ করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের সপ পেজে।