এই যে নির্জন পাহাড়তলি, নির্জন সম্ভ্রম
অনন্ত শান্ত ঢেউ নিয়ে যার বসত
অযুত স্নিগ্ধতা, অথচ কঠোর শরীর
তার আয়নায় প্রদক্ষিণ করতে করতে
কেটে যায় কত বৈরাগী বেলা
নির্জনতার নিজস্ব বৈভবে মাথা নুইয়ে
বসে থাকি, নিজের সাথে
নিজেরই আলাপন
নির্জন গর্জনে ভুলে যাই
আমারই অস্তিত্ব…
দিগন্ত ফিসফিসিয়ে ওঠে
ভাষাহীন আমি পড়ে থাকি
অবুঝ সংসার বয়ে যায় ম্লান গোধূলিবেলায়
বর্ণহীন আলো আঁধারে।
ক্রমাগত ভেসে যেতে থাকে
জ্ঞানের অহং, আমিত্বের উজ্জলতা
দীপহীন শিখা মিটমিট করে
অসীমের অনন্ত আহ্বানে
ক্রমশ নিঃশেষিত কপোত
গেয়ে যায় চরৈবেতি গান
কী সাধ্য তার
লিখে রাখে রক্তের সোহাগ
শূন্যতা মেখে বৈরাগ্য মেখে
তার যে অসার সংসার
প্রবল জীবন মাঝে
অশরীরী, মৃত্যুপিয়াসী প্রাণ ।
নির্জন প্রেমিকের এই বিলাপ
ছিন্নভিন্ন করে দেয় তার বসত
উড়তে উড়তে ছিঁড়ে দেয় তার যন্ত্রণা
বেহাগ বাজিয়ে ধরে রাখে সম্ভ্রম
বালুকাবেলার আনত আগুনে
নিজে থেকে পুড়িয়ে নেয় নিজেকে
বিধ্বস্ত হতে হতে
থেমে যায় প্রলাপ
আসলে, জীবন তো বিলাপেরই নামান্তর।
নির্জন এর নিজস্ব বৈভবেও আগুন আছে
শান্ত সমাহিত করার আগুন
শুদ্ধতার আঁচ নিয়ে জেগে থাকে অষ্টপ্রহর
অনন্ত ঢেউ যতক্ষণ না ডুবিয়ে দেয়
আনত প্রাণ ভেঙে ভেঙে থাকে বেঁচে
আঁকড়ে ধরে শব্দহীন নিবিড় আহ্বানকে
নিস্তব্ধ আলিঙ্গনে কতবার বলে
‘জেগে আছি –
আছি জেগে’
দিগন্তে আলো জ্বেলে মুখরিত হয় মেঘ, আকাশ…