দৈনিক কবিতা আশ্রম, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
আবহমান বাংলা ভাষা
দৈনিক
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
নিশীথ ষড়ঙ্গী
পরিযায়ী
আপনার স্বরবর্ণের তলায়
কতবার ঝরে গেছে বকুল
ঝুঁকে পড়েছে সিলুয়েট—
আপনার বিকেলের চরে
কতদিন কাটাকুটি খেলেছে স্রোত
সবুজ ত্বকের নিচে স্পর্শ দিয়ে গেছে ঋতু,
আপনার আশ্চর্য থিমে, লিরিক্যাল গদ্যে
উপকূলের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা দৃশ্যমান জাহাজে
কত কতবার হারিয়ে গেছে নিঃশর্ত মার্জনা
তবু আপনার সতর্ক শিরোনামটি বদলে গেছে
ব্যঞ্জনবর্ণের অচেনা সেতুতে
পারাপারের দুপুর পুড়িয়ে দিয়েছে
সমস্ত তুষারচিহ্ন
জীবন বদলে দিয়েছে ছোট্ট শহর
আর নির্জন শহরের যত কবিতার পাতা,
আপনার স্বরবর্ণের ছায়া পার হয়ে
প্রেমের কবিতার মতো বকুলতলা পেরিয়ে
অচেনা সেতুর কাছে দাঁড়িয়েছি আজ
পরিযায়ী একটি মানুষ…
রিমি দে
জঙ্গলভ্রমণ
বারান্দা ফেটে বেরিয়ে আসা ঢেউগুলো ভেতরের দিকে
একে একে খুলে দেয় খাল ও খেলনাগাড়ি
মাঝরাত দুলে ওঠে খেলনার গাড়িতে
যে সম্পর্কগুলো খাল কেটে ডেকে আনা হয়েছিল
সেই সব কুমীর আজকাল ঘরের ভেতরে ডাঙায় বসে আছে
ঢেউগুলো উল্টে পাল্টে দেখে নেই নিজের ভাষায়
লালে নীলে দ্বন্দ্ব ঘটে যায়
লালে নীলে ছন্দ ঘটে যায়
গলার কাছে বুড়ো আঙুলের চাপে নীলকণ্ঠ ফোটে
ভেতরের জঙ্গল ফিকে হয়ে যায় দেখতে দেখতে
আমি ফ্যাকাশে হয়ে উঠি
হাসপাতাল হাসপাতাল বলে চিৎকার করি!
সঞ্জয় ঘোষ
নীল আস্তাবল
নীল আস্তাবলের ভেতরে প্রবেশ করেছি
আজ সন্ধ্যাবেলায় নিজস্ব ডানা গুটিয়ে
সমস্ত প্রান্তরে দু’একটা বাদুড় ছাড়া তখন আর
কেউ নেই কোত্থাও নেই
আস্তাবলের ভেতরে তখন দিনের মতো আলো
তার কোণে কোণে সবুজ নিওনবাতি জ্বলছে
একটা মাকড়সা নেই, একটাও চামচিকে নেই
শুধু দু’চারটে নক্ষত্রের মৃত্যু প্রতি মুহুর্তে ঘটে যাচ্ছে
শব্দভেদী বাণ আমার হাতের তালুতে
কোন অন্ধমুনি জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে নীরবে
আমারও জটিল মস্তিষ্ক অঙ্ক কষে বাতাসে
কোন নিথর মথ পড়ে থাকে জীর্ণ প্রাসাদে
নীল আস্তাবল থেকে বেরিয়ে আসছি
আজ রাত্রিবেলায় কালো পোশাক পরে
সমস্ত বাগানে দু’একটা কাঠের পুতুল ছাড়া তখন আর
কেউ নেই কোত্থাও নেই
চন্দনকৃষ্ণ পাল
নিয়ন্ত্রণহীন
আলো আর শব্দের ঘেরাটোপ মানিনি কখনও
রাত্রি কি দিন নিজেকেই রেখেছি সরিয়ে
আধারের মগ্নতাকে স্বাগত জানিয়ে গেছি দিন কি বা রাতে।
আজকাল সবকিছু ম্লান হয়ে গেছে
আলো আর শব্দরা আঁধার সরিয়ে দিয়ে
নিজেরা দখলে রাখে দিক চক্রবাল!
আমি আর চোখও মেলি না
কোনও কিছুতেই আর নিয়ন্ত্রণ নেই
ভালো কি মন্দ কেউ বলে না তো আর।
শৌভিক মিশ্র
ফেরা
জ্যোৎস্নায় শাদা হয়ে আছে
তিল ভুঁই
জন্মান্তরের পথ উজিয়ে
ফিরছি আমি
এখন নিশ্বাস গ্রাম্য
কিছুটা নিশ্চিন্ত
সোনার রঙের পাতে
একথালা স্নেহ বেড়ে
অপেক্ষায় মা
দেড়শ রুটি আর
চাটনির খবরে
আমিও ছিলাম
শুধু থ্যাঁতলানো মাংসপিন্ডের ছবিতে
আমি নেই