সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম, ১১ বৈশাখ ১৪২৮
সাপ্তাহিক
১১ বৈশাখ ১৪২৮
Painting: Gerhard Richter
অনঞ্জন
জীবনকে আঁকড়ানো
দুঃখ পেতে গেলে পুরো অরণ্য লাগে না, একগুচ্ছ জোনাকিই যথেষ্ট,
জীবনকে আঁকড়ানো মানে মৃত্যুভয় না, খাঁচা খুলে পাখিটা ছেড়ে দেয়া,
সেই খোলা খাঁচায় তোমার চিঠিগুলো একটা একটা করে সাজিয়ে রাখা।
মনে আছে, আমাদের নান্নামিঞাকে? জীবনভর হিন্দুদের আশীর্বাদ;
কাফের? উনি দেখতেন মানুষ শুধু, আর ঘ্রাণ আসতো পারিজাতের,
বৃষ্টি থেমে যাওয়া ভোররাতের আজানে জীবন শুনত এক হিন্দু-পাড়া।
সাড়হীন নির্ভয়াকে ঘিরে যখন সারাদেশ পুনর্জন্মের গান গায়,
ঝরঝরে প্রভাতে কাগজকুড়ুনি মেয়েও গাণ্ডীব তুলে নেওয়ার পণ করে,
শিমুল, পলাশ, অমলতাসে লাগে রং, আমি আঁকড়ে ধরি জীবনটাকে!
বিশাল সাহা
দেখা হোক আমাদের
আমাদের আবার দেখা হবে
কিংবদন্তীতুল্য প্রেমের সূর্য উঠবে সেদিন।
মৃত্যুখুঁটি ভেঙে যাবে নতুন জীবন পেয়ে।
ঠোঁটের তিলে সূর্যমূখী আলো মাখবে,
গান গাইবে নিরবতার দেবতা।
বারুদের মতো বিস্ফোরিত বাতিকগুলো
মিলিয়ে যাবে রুইরাজ্যে।
আমাদের দেখা হলে,
বুকের পাশের আগুন পাখি উড়ে যাবে ফানুস হয়ে।
ছায়াপথের বিষাদসিন্ধু ফিকে হবে তোমায় পেয়ে।
অনিশ্চয়তার অতল গহ্বরে লুকিয়ে থাকা শঙ্খচীল
প্রাণোস্পন্দনের উন্মাদনায় মেতে উঠবে।
যদিও আমাদের দেখা হলে,
স্মৃতির বনসাই ফুলে-ফেঁপে উঠবে।
ইথারের মতো অদৃশ্য বেদনা ভিজিয়ে দেবে কপোল।
ভাল সময়গুলো হেমলকের মতো ভিজিয়ে দেবে
শরীরের গভীর।
অধিকারের নীল নকশায় সাজানো মানচিত্রের কথা
মনে পড়বে আবারও।
হয়তো স্মৃতির গিরিখাতে হারিয়ে যাব আমরা,
ভেসে যাব বেদনার দোলনায়।
ভয়ার্ত ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে বুকের কপোতাক্ষে।
তবুও দেখা হোক আমাদের।
শতাব্দির ইতিহাসে লেখা হোক নতুন কালজয়ী কবিতা।
আত্মার কাছাকাছি বোবা অনুভূতিগুলো
তবু তোমার পরশ পাক।
তবুও শোক মুছে যাক আমার থেকে,
বিরহের পৌণঃপুণিক খুঁজে পাক সমাধান।
বিলবোর্ডে, কালভার্টে,
ল্যাম্পপোস্ট কিংবা দেয়ালচিত্রে লেখা থাক,
“মৃত্যুঞ্জয়ী ভালোবাসা মৃত্যুর থেকেও যন্ত্রণাময়।”
সুবীর সরকার
যাপন
মাকড়সার পেছনে দৌড়তে দৌড়তে একসময় আমি
টিকটিকির লেজে পা দিয়ে কেমন চমকে উঠি
আর ভরা দুপুরে একটা গুহার ছবি আমার সামনে
এসে দাঁড়ায়।
একটা রোদ রঙের
লন্ঠন দুলতে দুলতে শিস দেয় আর হাওয়া বাতাসের
কথা বলতে থাকে
তখন রহস্যময় হয়ে ওঠে জাতীয় সড়ক।
তখন অপরাহ্ন থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে
মধ্যাহ্ন।
বুধবারের হাটে ঢুকে পড়ে মস্ত
জোতদারবাড়ি
আর মুখোশ ও সিন্দুকের মাঝে বেলাশেষের
রোদ।
Painting: Gerhard Richter
বঙ্কিমকুমার বর্মন
সমুদ্রস্নান
জ্বরের ভেতর শুয়ে যে নক্ষত্রের সমুদ্রস্নান
এতদিনে গেয়ে গেল আঁখি দেহপল্লবে
আজ সে খুব একা একা ঘোরে অর্জুনের বনে
দু’বেলা খায়নাকো আহারে দু’মুঠো ভাত
যেন তার শক্তি ফুরিয়েছে, অসম জুয়ার আসরে
কেন এত নয়নের অস্পষ্ট সীমারেখা
বোঝেনি কেউ, বুঝতে না পারাও এক দারিদ্রতা
তবে কী তুমি, তাঁকে জানো না আজকাল?
পড়শি মেঘের মতো তাঁর বিগলিত হৃদয়
এখনও গুছিয়ে বাঁচে স্বপ্নে সমস্ত ঘরদোর ।
সৌরভ লায়েক
প্রত্যক্ষদর্শী
কি সুন্দর পরিকল্পিত ভাবে খুন করলে বলো
আমি দাঁড়িয়ে থেকে দেখলাম
কি সুন্দর পরিকল্পিত ভাবে খুন করলে বলো
আমি নির্বাক সম্মতি দিলাম
জানি এ খুনের দায় তোমার একার নয়
জানি এ খুনের দায় আমারও
হাতে কোনও রক্ত লেগে নেই
অনুসন্ধিৎসু গোয়েন্দা নেই
তোমাকে দেখার জন্য তুমি আছো
আমাকে দেখার জন্য আছে অন্ধকার
কি সুন্দর পরিকল্পিত ভাবে খুন করলে বলো
কোনো রকম চিৎকার না করে মরে গেল সে
আমাদের সম্পর্ক !
Painting: Gerhard Richter
গত নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সন্মাত্রানন্দের অসামান্য উপন্যাস 'মেঘবতী'-র বারোটি অধ্যায় পড়ুন
পূর্ববর্তী সংখ্যা
পড়তে পারেন:
এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আমাদের প্রকাশিত বইগুলি। ভিজিট করুন আমাদের অনলাইন সপ, আর কিনুন আমাদের বই। নিচের BUY NOW বোতামে ক্লিক/ট্যাপ করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের সপ পেজে।