সাপ্তাহিক

১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

Painting: Chandan Mishra

রবীন বসু

সবটাই ইতিবৃত্ত

সময়, তোমাকে ধরব কোন অছিলায়
রাঙতামোড়া এই যে উঠোনের ধার
চুপটি করে বসেছে অবসর
       আমরা এখন গল্পের পারাপার।
 
কপোলে আলোক মাখা, শরীর জাগছে
সঞ্চিত উত্তাপ নিয়ে নিঃশ্বাস সঘন
        প্রবহমানের দিকে অব্যর্থ সঙ্গম
আমাদের আকাঙ্ক্ষার নিশ্চিত পতন।
 
আবহের দিকচিহ্ন মাপজোক করে
   তৃপ্তির যে ডেসিমেল রেখায়িত নয়
      তার দাগ আক্ষরিক সময়বাহিত
নিমগ্ন চেতনা ডাকে, সাড়া দিতে হয়‌।
 
সময়, তোমাকে আজ ধরে রাখা দায়
পরস্পর বোঝাপড়া দ্বন্দ্বময় দিন
অঙ্গারের দাগ নিয়ে দহনের জ্বালা
         সবটাই ইতিবৃত্ত, নাচে তাতা ধিন।
 

অনঞ্জন

প্রিয় বৃষ্টি

বৃষ্টি আমার বড় প্রিয়
ছেলেবেলায় বৃষ্টি পড়লে
আমি হাতদুটো আজানের মতো করে বৃষ্টি ধরতাম
আর আকাশের দিকে মুখ তুলে ঈশ্বরকে বলতাম,
‘দেখো ভগবান, ঠিক দেখো,
আমি কাউকে কষ্ট দেব না’।
 
এখন আমি বৃষ্টিকে খুঁজে বেড়াই
এখন আমি ঈশ্বরকে খুঁজে বেড়াই।
 
কষ্ট দিতে দিতে দিতে
আজ আমি বৃষ্টিরও অচেনা!

অর্ণব চট্টোপাধ্যায়

রাত্রিপর্ব

এই আখ্যানের ভেতর 
সামান্য বালি, নুড়ি সমেত বাঁচাটুকু… নিরুচ্চার…
কখনও চুড়ির শব্দেও কাঁপছে
 
দেবতার বারতার মতো এ অপেক্ষমাণ ক্ষণ,
পাতার মর্মরেই কেমন থমথম করে ! 
 
কিছুই করার নেই
 
দেখি…
 
এই সব বৃষ্টি…ফোঁটা ফোঁটা জলের আকুতি
…নিস্প্রভ মেঘ…মলিন পাতারা…
 
কেউ হয়ত সন্তর্পণে 
      ছুঁয়ে থাকে…বিস্তারিত পাখির উড়াল
 
কেউ ভাবছে,
        রাত্রিপর্ব সরে গেলে 
                আরও কিছু কথা হতে পারে…
 
 

Painting: Chandan Mishra

রাখী সরদার

হাওয়া ঘুড়ি

নীল সীমানা ছাড়িয়ে 
থমকে আছে শোক। যে যার মতো 
ভিতর ঘরে বসে, কষ্ট পাওয়া শরীরে গাছেরা সব পাথর।
 
শৈশবের সুতোটানে আমি কেবল
হাওয়া ঘুড়ি, উড়তে উড়তে পার হচ্ছি
হেমন্তপুর বালিকা-ঝিল…
 
ঝিনুক ভাঙা রোদ্দুর
ধুলোপথে টুকরো টুকরো স্মৃতির
আহ্লাদ। রূপোর ঘাসে মুখ ডুবিয়ে
ঝিকিমিকি সোনার নাকছাবি…
স্পষ্ট দেখি কিশোরবেলার সেই মুখ
মাধবী আড়াল ধারে।
 
বুকের গভীর থেকে ডেকে ওঠে
মেঘলা রঙ পাখি। ঘুড়ির লেজে
ঝোড়ো হাওয়া… গোত্তা খেয়ে
ছিঁড়ে পড়ি ভাঙা দালানকোঠায় 
 ধরা গলায় কে ডাকে…
 ‘রূপূ এলি নাকি?’
 
কোথায় সে ঘুড়ি! শূন্যে উড়ছে
রাশিকৃত খ‌ই। হাঁটছি একা একা
অসংখ্য শবযাত্রায়…

কৌশিক চক্রবর্ত্তী

উত্তরণে

সিঁড়িতে তরতর করে উঠে যেতে যেতে হাত রেখেছি কাঁধে। উদযাপনের জন্য ফেলে এসেছি অক্ষত ইবাদতখানা। দরজা খুলে সেখানে তখন অস্তিত্ব কুড়োবার হুড়োহুড়ি। এভাবে উঠতে উঠতে পা পড়লো ভাঙা কাচে। ফুটে যাবার বদলে তারা পা থেকে খুঁটে নিল বিপন্ন চুম্বন। আরও ওপরে উঠলে আনাচেকানাচে ঠোঁট। ঘিরে থাকা জাফরির কাজ। সাজানো বাগান। চারদিকে প্রত্যেকের ওতপ্রোতভাবে ছুঁয়ে থাকা।
এরপর উঠতে উঠতে গুটিয়ে নিই ছাদের আড়াল। মাথার ওপর নির্ণায়ক শূন্যতা। বেপরোয়া হয়ে ওঠে পকেটে জড়ো করা দ্বিখণ্ডিত কবরস্থান। 
আরও উচ্চতায় উঠলে হালকা হচ্ছে নিঃশ্বাস। ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে মাটির কাছে ঋণ। ছাদের প্রত্যেকটি কিনারা আসলে আমার একএকটি সঞ্চয়ের ভাঁড়ার। মাটি আর চুম্বনের দাগ ঝেড়ে বেছে বেছে সেখানেই রোজ জমিয়ে রাখি নিজের প্রতিচ্ছবি।
 
 

Painting: Chandan Mishra

গত নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সন্মাত্রানন্দের অসামান্য উপন্যাস 'মেঘবতী'-র বারোটি অধ্যায় পড়ুন

পূর্ববর্তী সংখ্যা

পড়তে পারেন:

এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আমাদের প্রকাশিত বইগুলি। ভিজিট করুন আমাদের অনলাইন সপ, আর কিনুন আমাদের বই। নিচের BUY NOW বোতামে ক্লিক/ট্যাপ করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের সপ পেজে।