সাপ্তাহিক

২৮ চৈত্র ১৪২৭

Painting: Tom French

নিশীথ ষড়ঙ্গী

মিথ্যে

গ্রাম পরে নিই গায়ে, পায়ে মাখি ধুলোর উৎসুক
নদীপথে সহপাঠী দু’চারটি গাছ
শাখার আঙুলে ছুঁয়ে দেয়–
কাছে ডেকে কানে কানে মৃদু ভর্ৎসনা
এতদিন ভুলে থাকতে হয়!…
অঙ্গুরীয় বার করি, দেখাই পুরনো অভিজ্ঞান
জখম দেখাই জামা তুলে
তবু ওরা গন্ধ নেয়
নাগরিক গন্ধ
কিছু ছিল নাকি চুলে?
ভাবতে ভাবতে পার হই,
ভাবতে ভাবতে নীলকুঠি আসে
ওই তো মরচে ধরা লোহার দরোজা
শিশুপাতাটির নীচে অন্ধকারে ইংরেজ সেপাই…
আবছা অরণ্য দূরে; গলা তুলে ডাক দিই 
শূন্যে মুখ তুলে–
আমি তোমাদেরই বন্ধু,
তোমাদের, তোদের, তোদের…
প্রতিধ্বনি ফিরে আসে:
মিথ্যেবাদী, মিথ্যুক,
কাফের!…

মহম্মদ সামিম

শস্যের গায়ে লেখা জন্মকথা

১.
গ্রাম থেকে বয়ে যাওয়া এক নদী হঠাৎ 
শহরের উল্লাসে মিশে গেল নির্জন, 
                                    তরল বিশ্বাসে
আকাশ থেকে সারিবদ্ধ নেমে আসে মেঘ 
নদীর উপর খানিক ভেসে, ডুবে যায়
                            বিষণ্ন তুলোর মতো
নদীর প্রসারণে ঝুঁকে থাকে সূর্যের তৃষ্ণা 
রোদ্দুরের কাছে জড়ো হয় হেমন্ত-ঘ্রাণ 
অশ্রু দিয়ে ধুয়ে দেয় নদীর অসুখ…

২.
দেখি, গ্রামীণ নদী বয়ে যাচ্ছে একলা 
ধর্মতলার ফুটপাত দিয়ে পার্কস্ট্রিটের দিকে। 
খালি গায়ে এক পাগল, ডুব দিল স্রোতে
শ্যাওলা-ধরা কলম কুড়িয়ে, এক দৌড়ে
                                মিলিয়ে গেল শূন্যে । 
দেখি, ময়দান শুয়ে আছে পোড়া ঘাসের উপর
নদী এসে থমকে গেল একটি ফ্লাইওভারে,
একটি ফকির ও দুটি শিশু শুয়ে আছে
সরলরেখা হয়ে, মাঝে ভিজে শালপাতা 
নদী শুনতে পেল অরণ্য চাপা শহরের আর্তি
চিৎকার করে বলছে, “জ্বলে ওঠো ক্ষুধা”

৩.
বেজে ওঠে প্রাচীন চার্চের ঘন্টাধ্বনি,
ফাদারের হাত তখন সহজ ঢেউ-এর মতো
কপাল ও বুকের দু’পাশ ছুঁয়ে নদী হয়ে যায়।
গ্রাম্য নদী তখন সন্ধ্যার কাছে পৌঁছে গেছে
হলুদ আলোয় সেজে উঠেছে ভিক্টোরিয়া 
গাছের সারি যেন গম্ভীর ধ্যানের ঋষি। 
নদী শুনতে পাচ্ছে, অনতিদূরের গঙ্গায়
কেউ নিঃস্ব, ক্ষীণ, বেদনার নৌকো হয়ে
ছলাৎ-ছল্ জল ভেঙে পেরিয়ে যাচ্ছে শহর
নদী দেখছে, তার ক্ষয়িষ্ণু গ্রাম 
      আলোকিত স্বর্ণনিখিল হয়ে বসে আছে
                 প্রান্তহীন শস্যভূমির উপর, একা…

 
 

অনিকেশ দাশগুপ্ত

জানলা

নীল সীমানার দূরে -অদূরে টিমটিমে 
পাহাড়ী দাগের শহর
কুটি কুটি ক’রে ছেঁড়া যাবতীয় নিশীথ ট্যাবলো
হাওয়ায় ওড়ে সেখানে,
কালো মাথার পেছনে রেশম ঔজ্জ্বল্যের চাঁদ 
ঘরময় , ঘোড়ার বাদামী গা থেকে ঠিকরে আসে
দূর যাত্রীর সিল্যুয়েট, 
লাল মন্দির ঘরে হলুদাভ আলোর এমন রাতে
পার্বত্য খুরের শব্দ ফিরে যায়, আমাদের জাগিয়ে,
কিশোরী মুখের ছায়া হেলে পড়ে ডুরে আলোর জানলায়
 

Painting: Tom French

পৌষালী চক্রবর্তী

আরুণি

ক্ষুধার স্বননে জাগি
 বন্যাজল,বন্যাজল শ্রাবণের ভোর
জপ ধ্যান শিরস্ত্রাণ কাপড়ের থেকে বেশি
এ তন্ডুল তোমাকে বাঁচাবে
 
মাটির দোতলা গলে নেমে আসে আবার মাটিতে
সারারাত এত বৃষ্টি হল
জলে জলে শস্যক্ষেতে দিনভর মীন সহোদরা
তাকে মানুষী পরিচিতি দি
 হে আমার অচিন্তা ভগিনী
আদি মধ্যযুগের পর এই দেখা হল
অনন্ত বৃষ্টির মাঠে…
 
জটাভার নেমে গেছে, স্নানান্তে রক্তজবা চাও 
 
        ত্রাণশিবিরের বারান্দায় বসে 
         অন্নপূর্ণা  কাজললতা খোঁজে
      কাঁখেরটাকে নজর ফোটা দেবে।
 
 লঙ্গরখানার দরজা আগলাচ্ছে মূর্তিমতী ক্ষুধা
 মৃৎসরাতে দুটি কলকে ফুল
 
নিসর্গ ঝাপসা করে দক্ষিণ সমুদ্র জল পূর্বাচলগামী
 
 
  জল বাড়ছে, জল বাড়ে
  শালবল্লা উপড়ে এসে ভাঙে বালির বাঁধ
  বাদাবনে অর্থনীতি  রাজনীতি-বিমুখ
  আজ রাতে উদ্দালক আরুণি…

গৌতম কুলসী

যৌথ খামার

সত্যি বলছি সকাল সকাল মন লাগে না কাজে

প্রেমিক সেজে ঘুরে বেড়াই তোমার মনের মাঝে-  

চা বানাই গল্প করি; তুমি চিনতে পার না যে  

একা একা গান শুনি, ফোনে পল্লীগীতি বাজে।

 

সারা দুপুর জুড়ে উপুর হয়ে বই পড়ছ দেখি-

আমার লেখা কবিতার বই তোমার হাতে, একি!

কাব্য নিয়ে ঘর করবে আমার সাথে নাকি?

দিবানিদ্রায় কেন যে এমন মিষ্টি স্বপ্ন দেখি!  

 

বিকেল কাটে আকাশ দেখে পাখির শব্দ শুনে

কে মনে হয় আসছে যেন আমার বাড়ি চিনে

স্বপ্নে জানি বীজ বুনেছি রেশ থেকে যায় মনে

একটা ঘুড়ি গল্প করে নীল আকাশের সনে।

 

রাতের বেলা উদাস হাওয়া পথ ছাড়ে না আমার

মেঝেতে বসে গল্প করে বানায় যৌথ খামার

গেলাস গড়ায় খামার গড়ায়, কী যে করি আহার

দেখি, বড় লোকের বিটির সাথে হাজির রতন কাহার। 

 

 

Painting: Tom French

গত নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সন্মাত্রানন্দের অসামান্য উপন্যাস 'মেঘবতী'-র বারোটি অধ্যায় পড়ুন

পূর্ববর্তী সংখ্যা

এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন আমাদের প্রকাশিত বইগুলি। ভিজিট করুন আমাদের অনলাইন সপ, আর কিনুন আমাদের বই। নিচের BUY NOW বোতামে ক্লিক/ট্যাপ করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের সপ পেজে।