অতনু চক্রবর্তী পুরুলিয়ার কবি। নিয়মিত কবিতা লেখেন না, বলা ভাল লিখতে চান না। অতনুর কথাই ঘুরিয়ে বলি—দুঃখী গৃহে কি কবিতা সাজে? লিখতে চান না, তবু তাকে লিখতে হয় , না লিখে উপায় নেই, কবিতা তার কাছে অনিবার্য হয়ে ওঠে। মঞ্চ, পুরস্কার, প্রতিষ্ঠা কারণ নয়, এই অনিবার্যতা অতনুকে লেখায়। আর এই অনিবার্যতার ফল অনির্বচনীয় ।
…কবিতা আশ্রম
অতনু চক্রবর্তীর কবিতা
বেড়া
১
যদিও বাতাস বহে একাকী
বিজনে মধুর বাঁশি বাজে
কিভাবে হাত পেতে দাঁড়াব বলো
প্রণয় কি দুঃখী গৃহে সাজে ?
২
আমি রাগ করিনি যখন
আমার অন্ন মিশেছে কাঁকরে
আমি লিখতে চাইনি কোনোদিন
দ্যাখো চিঠি পুড়ে গেল আখরে
৩
যখন দেখতে চেয়েছি আমাকে
আমায় জড়িয়ে ধরেছে গাছেরা
আমি খুলে দিয়েছি আমাকে
তুমি নেই বলেছে আছে-রা
৪
একটি শুকিয়ে যাওয়া
গাছ দেখে ভাবি
মাটি নয়
জল নয়
হাওয়া নয়
ভালবাসা চেয়েছিল
৫
চুলে বিলি কাটতে কাটতে
কেউ বলে ওঠে
ভাল নয় এত চুপচাপ !
কে বলল! চারপাশ দেখি,
কেউ নেই
কেউ নেই, তবু
স্পর্শ পাই
কুয়াশায় ভিজে আছে
সজনের ফুলগুলি
চুল থেকে বেরিয়ে একটি
ধানপোকা বলে ওঠে, দ্যাখো
চোখের জল মুছতে গিয়ে
তোমার হাতে চোখের লাল
লেগে গেছে