রুমা তপাদারের কবিতা
রুমা তপাদারের কাছে কবিতা আসে, অপেক্ষা করতে হয় না। জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া একটি দিন তার জানালায় এসে উঁকি মারে, পাঁজর ভেঙে যাওয়া একটি রাত্রি আশ্রয় চায় তার কবিতার গুপ্ত কুঠরির মধ্যে…
…কবিতা আশ্রম

আবহাওয়ার খবর
১
রাত্রিকে বলেছি আমি এই বৃষ্টি উত্তাল বাতাস
সব মৃত, সামান্য আগুন নেই ছাই ছাই রাত
বৃষ্টির আকাশ ঘোর কালো
কখনও ইচ্ছে হলে সামান্য সামান্য বিদ্যুৎ চমকালো
এই বাতাসে আঘাত নেই তেমন যেখানে
জেগে উঠবে প্রাণ
খসে পড়বে উল্কা
পুড়ে যাবে তারাটি একান্তে
এই বৃষ্টি বেঁধে রয়েছে নিজস্ব পরিসীমাতে।
এই বৃষ্টি মৃত। মৃত এই নিন্মচাপ।
যে হাত ধরেনি, যে জানেই না গর্জন চিৎকার
সমুদ্রগর্ভের কুণ্ডলী পাকানো জল মেঘ হয়ে ওঠে কোন পথে
সে-বৃষ্টির প্রাণ নেই প্রাণ নেই যে থামেনি মানুষের সংকটে…
২
প্রখর রোদের দিন, চুপ করে বসে থাকতে ইচ্ছে করে
ঘর অন্ধকার করে মনে হয় বসি
এই শান্তি, দেবতায় ভরা জীবন
এ আসে ও আসে বলে কানে কানে অপদেবতার আখ্যান
যে আসে তাকেই জল দিই, ধাতু নেই মাটির গেলাস
টবে কোনও গাছ নেই, ফুল নয় মাটি তুলে দিই প্রশংসায়
স্তব শেষ হলে মনে মনে বৃশ্চিক দংশায়
জ্বলন জ্বলন করে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে
থেমে যায়, অন্ধকার ঘর আমাকে বিশ্বাস করে আধোঘুমে আছে
আমি কেন জেগে উঠি ক্ষমতার কাছে!
ঘরে দেখি আমার সমস্ত দিন ভাল হয়ে বসে আছে এককোণে
প্রখর দিনের নামে কত মিথ্যা রটে যাচ্ছে আজেবাজে বিজ্ঞাপনে।
“নীচে তো নামব না আর” বাড়ির দেওয়ালে লেখা আছে
দেখা করতে হলে সোজাসুজি উঠে আসবেন মহাকাশে।
৩
আমরা সবটা জানি? সত্যিই কি তাই?
এই প্রশ্ন মনে মনে জেগে উঠেছে আচমকাই।
নিম্নচাপ মানে সমুদ্র গর্ভের নড়ে ওঠা
কেন্দ্র জানে? আকাশ জানে না ভেঙে যায় কীভাবে সে নীরবতা?
সমুদ্র হঠাৎই গমগমে জল ঘোরে হাওয়ারা একাকী
যেটুকুই বৃষ্টি হয় আমরা সেটুকু চোখে দেখে থাকি
যা কিছু আড়ালে থাকে মিথ্যা সব, সব মিথ্যায় হারাম
শুধু শুধু রটে যায় জল হাওয়া মানে জলবায়ু শিরোনাম
৪
ঝরনা হল মেয়েমানুষের সেই যোনিপথ যা স্পর্শপ্রবণ নয়।
সোজাসুজি যাকে ছুঁয়ে কখনওই উত্তেজিত করা যায় না
এইসব পাহাড় বোঝে না।
ওকে বোঝাতে বোঝাতে কত কত ঝর্ণা অনন্তকাল বয়ে চলে
এক শতাব্দীর পর মেঘ কাছে এলে ভালবাসা হয়
ভালবাসা জমে উঠে গতিপথ খরস্রোতা
মেঘ এসে কানে কানে বলে এসব যেন না জেনে যায় সভ্যতা
(তাই দূরে দূরে থাকতে হবে আমাদের…)
স্রোত ক্ষীণতনু হয়ে বয়ে চলে অন্যমনা নিমগ্ন একাকী
নিম্নচাপ মুখোমুখি দুজনের সাময়িক সেই চোখাচোখি!
যতবার দেখা হয় উথাল পাথাল বমি বমি ভাব
ঝর্ণা জানে পাহাড়ের অনেক গভীরে নিম্নচাপ
৫
গাঢ় অন্ধকারে চোখ খুলে গেলে বন্ধ করেছি আবার
ঘুমের আশ্রয় চেয়ে শিথিলতা চেয়েছি আমিও
নিজেকে ঢেকেছি শ্বাসবায়ু চেপে ধরেছি উষ্ণতা-প্রত্যাশায়
বাইরে ঝড় হাওয়া বাজ আমার দারুণ ঘোর
সেই রাত্রে অন্ধকারে চুপিচুপি ডেকেছেন ঈশ্বর
বুঝিনি ঘোরের মধ্যে আমি সেই কালপুরুষের পাশে
যে আলো ছড়িয়ে দেবে ভোর হতে না হতেই আকাশে
৬
আসলে কি জানো? আমাদের পরিচয় নেই কোনও
ব্রক্ষাণ্ডের চোখে দেখেছ নিজেকে কখনও?
সেইখানে দেখলে দেখা যাবে প্রাণ মানে
সাদা সাদা সামান্য রেখার মতো আমি
তবু কত ছলে-বলে দৃঢ়তর থেকে অচানক পায়ে এসে নামি
কার পা? তার পা? কোথায় কে জানে? মহাবিশ্ব কিছু খোঁজ রাখে তার?
নিজেকে মৌলিক কর, এই মহাবিশ্ব দৃঢ়তার।
৭
হাওয়ার বৈচিত্র কত জলবিন্দু মিলন আকাশে
মাটি জানে কোথায় ফাটল হলে কীভাবে কাদায় বদলাবে।
চটুল হাওয়ারা জানে বয়ে যেতে হবে কোথায় কখন
আবহাওয়া-নির্ভর প্রতিটি অঞ্চলে জলবায়ুর জীবন
স্থায়িত্ব কিছুই নেই মহাশূন্য সমস্ত মহিমা
এই বিশ্বে কান পাতো শুধুমাত্র ওম শব্দ আমাদের পরিসীমা