Painting: Eva Hesse

গৌতম রায়

হারমোনিয়াম

একটি হারমোনিয়ামকে দেখি

মাঝে মাঝে গায়ে লাগা ধুলো দি ঝেড়ে 

টিউনের প্রয়োজন পড়েনি

কোনও বয়সও হয় না,

মাঝে মাঝে পাঁজরের তলায় 

রিডের কাছে একাত্ম হই 

গড়িয়ে পড়ে অভিমানী জল

ধরি সমব‍্যথী হাত 

 

বিকিরণে হেঁটে আসে 

লুম্বিনীর সফেদ হাতি

কখনও ফতেপুর দিনইলাহি ভিড়

কখনও অনুপ তালাওয়ে তানসেন

বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া

ভিজতে ভিজতে জেগে ওঠে হরপ্পার সরস্বতী,

আমি বিদ‍্যাসাগর সেতু পেরিয়ে রবীন্দ্রসদন,

তা থেকে মা ফ্লাইওভার –

ব‍্যাটন হাতে দৌড়াতে দৌড়াতে 

রান আপ ক্রমে দূরে সরে যায়

 

রামকৃষ্ণ মিশনের দীর্ঘ লাইনে 

দাঁড়িয়ে থাকা ভিখারিটির কথা মনে পড়ে

দুর্গতদের ত্রাণ সংগ্রহে 

তার মহার্ঘ্য পুটলিটি 

কেমন দীঘল করেছিল ধুন 

 

আজ জয়চণ্ডীর বুকে ধস

একটি স্থাপত্যের বেসামাল চাঁই

আটকে রাখে পথ

হারমোনিয়াম রিড তালফেরতায়

ধরে রাখে ভারসাম‍্য 

আমরা পাশ কাটিয়ে সাবধানে সে পথ

করি অতিক্রম

এই সরগমের টেথিস জাদু ধুন  

হিমালয় করে পরিবেশন

আর উচ্চতা বাড়তেই থাকে।

রবীন বসু

কিরাত মানব

অন্ধকারে বাণ ছুঁড়ি অহেতুক উল্কার প্রপাত

আমাকে আবিষ্ট করে রাত্রিচর পাখির চিৎকার

সামনে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ় বৃক্ষ উচ্চ সারি সারি

সবুজ পাতার থেকে মায়া অন্ধকার নেমে আসে

প্রাচীন সভ্যতা-মুখ ঢাকা পড়ে আলোছায়া মাখা

বৈদিক স্তোত্রের মত উচ্চারিত নামগান জাগে

অনুমান সংক্রামক, তবুও আক্রমণ উদ্যত 

নিহত শিকার যেন আমি আর আদ্যপান্ত খেলা।



অব্যর্থ লক্ষের দিকে চেয়ে থাকি, বনভূমি চুপ

আমারও দৃষ্টি বিদ্ধ কুহক আচ্ছাদিত সম্ভ্রম

কুয়াশা ঢেকেছে রাত, আমি তার হাত ধরে থাকি

বৈষ্ণবী আঁচল ওড়ে, চমৎকার প্রেম জাগে দেহে

সকাম উষ্ণতা মাখে শ্রীরাধার উরুসন্ধি বেয়ে

স্বপ্নসখা কালোধন আর আমি কিরাত মানব।

সুজন পণ্ডা

খোলামকুচির সংসার

বিকিয়ে গেছে দৈনন্দিনের যা কিছু

অস্থির শ্বাস আর বুকের ঢিপ। 

তবুও তো

গরম রক্তের স্রোতে

নোনা হয়ে যায় গাল। 

শীর্ণ বটের ঝুরির মত

তবুও তো শরীরের দাগ

জেগে থাকে অস্পষ্ট কাগজে। 

 

বিকিয়েছে দৈনিকের সব টুকু

কেবল কিছু অভ্যেস থেকে গেছে

সকালের অগোছালো চাদরে বালিশে।

 

২

 

নদীর অনতি দূরে

যেখানে শ্মশান যাত্রীরা দাঁড়ায়

বর্ষায় বাদলে…

যেখানে শুকনো খোলামকুচির ডাঁই

একটি নয়নতারা 

আর একটি ধুতরো…

পাশাপাশি এক ছায়ায়।

 

কোনও ভাত ঘুমের অলস রোদে

ছোট্ট ঘূর্ণি এসে এলোমেলো

ভেঙেছে সংসার…

অন্তর্লীন আফসোস হাহাকার করে গেছে

ছোট নদীর চড়ায়…

চিতার ছাই উড়ছে

ঢেকে যাচ্ছে সব খোলামকুচির দালান।

পৌষালী চক্রবর্তী

বিপরীত বিবর্তনে

জুরাসিক স্তব্ধতার দিনে

পৃথিবীর হাওয়া ঠেলে

যতদূর এগিয়েছে টেরিডোকটাইলের ডানা

 

আমি তার লক্ষ বছর নীচে সৎবোন হই  

 

বিড়ালির ছদ্মবেশে এসেছিল প্রজনন দেবী

হাড়মজ্জা খুলে তার অন্তরের সার

জমিয়েছি

বাৎসল্যভাবে এক প্রকান্ড উদরে

 

 একটি গাছের মত, একটি নদীর মত

প্রাকৃতিক পাঠ ভুলে গিয়ে

 বিবর্তনের পথে মানুষ হটেছে আরও মানবেতর 

কোনও এক সত্তার দিকে

 

এতপথ বাক্ মুগ্ধ বলে

নদী রূপ থেকে তার 

দিকে দিকে দেবী জন্ম হল

সামগাথা পথভ্রষ্ট 

গর্ভপুষ্প ভুলে গেছে সে আসলে চন্দ্রলগ্না

জল তার আদি জননী

 

অরিজিৎ বাগচী

ফুলের দোকান

আমি ফুল কিনি আর, 

 

ফুলের দোকানের পাশ দিয়ে

ফুল হেঁটে চলে যায়, 

 

ঠিক যেন একটা জীবন্ত এস্রাজ 

প্রতি মাত্রায় যার অষ্টপ্রহরের স্তব্ধতা,

যার প্রতি তালে ঘনীভূত ভাস্কর্য,

অবাধ্য গাঢ় বসন্তকে দীর্ঘায়িত করে।

 

যদিও এসব কিছুই দেখার সময় নেই আমার

ঘিঞ্জি রাস্তার ধারে, লাইনে দাঁড়িয়ে

আমি ফুল কিনি ঈশ্বরের জন্য।

 

হাহাকারের কোনও শেষ নেই

 

 ফুলের দোকানের পাশ দিয়ে

 ফুল হেঁটে চলে যায়,

 

আমার ভেতরের ঈশ্বর ফুলের জন্য

ফুলের সাথেই হেঁটে চলে গেছে বহুক্ষণ আগে,

 

অথচ আমার আর তার কাছে যাওয়া হল না।

বারো পর্বের ধারবাহিক

“ঘরের কাছে আরশিনগর”

পর্ব-৬

সুরুলের গালাশিল্পী সেখ ইউসুফ আলি

রামানুজ মুখোপাধ্যায়

আঠারো-উনিশ শতকে ইলামবাজারের সুখ্যাতি ছিল গালাশিল্পে। মুর্শিদাবাদের নবাব দরবারের গোপন চিঠিপত্রে যে-গালার উপর মোহর ছাপ দেওয়া হত, সে-গালা ছিল ইলামবাজারের। অজয়-তীরবর্তী অঞ্চলের বাণিজ্যিক ইতিহাস লিখতে গিয়ে রাঢ়-গবেষক অজিতকুমার দাস জানিয়েছিলেন: ‘এখান থেকে নৌকা বোঝাই হয়ে লাক্ষা চালান যেত মুর্শিদাবাদের নবাব প্রাসাদে শীলমোহর তৈরীর প্রয়োজনে।’ নবাব সুজাউদ্দিনের রংমহলে ছিল গালার খেলনা ও শৌখিন আসবাবপত্র। বিলাসবহুল ফরাসবাগে ছিল গালার তৈরি একটি অপরূপ গাছ। তার সবুজ পত্রপল্লবের বৃন্তে-বৃন্তে লাল ফুল। টোপা-টোপা হলুদ ফল। ডালে বসেছিল এক ঝাঁক কুচকুচে কালো মৌটুসকি পাখি। তাদের সরষের দানার মতো রাঙা চোখ। প্রবাল রঙের ঠোঁট। দিল্লির দরবারের আমিররাও এসে সে-গাছের তারিফ করে যেতেন। এ-নিছক ঔপন্যাসিকের বর্ণনা নয়। ইলামবাজারের দক্ষ গালাশিল্পীদের নৈপুণ্য এইরকমই ছিল। নবাব দরবারের রংমহল থেকে আমির-ওমরাহ-রাজা-জমিদার বাড়ির রমণীরা নিত্য নতুন ডিজাইনের যে-সব চুড়ি পরতেন, সেও ইলামবাজার থেকে যেত। এমনকী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভ্রান্ত বাইজিদের হাতে শোভা পেত ইলামবাজারের আকর্ষক গালার চুড়ি। শুধু শিল্পিত কারুকাজে নয়, নতুন-নতুন ডিজাইন সৃষ্টিতেও ইলামবাজারের শিল্পীরা ছিলেন তুলনাহীন। রাঢ়বঙ্গের চিরঞ্জীব কথাকার তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইতিকথা লিখেছিলেন ‘রাধা’ উপন্যাসে। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শিল্পের প্রসার কমে এলেও শিল্পীদের নৈপুণ্যের খ্যাতি ছিল অক্ষুণ্ণ। শিল্পোৎকর্ষের জন্যে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের বিখ্যাত প্যারিস শিল্প প্রদর্শনীতে পাঠানো হয়েছিল বীরভূমের গালানির্মিত বহুবর্ণ লেটারবক্স, দোয়াতদানি, সূচিশিল্পের উপকরণ রাখার পেটিকা আর সুদৃশ্য সব গৃহসজ্জার সামগ্রী।

 

১৯২২-এর ৬ ফেব্রুয়ারি বারোজন কর্মীকে নিয়ে সুরুলে শুরু হয়েছিল গ্রাম পুনর্গঠনের কাজ। কাছেপিঠের বিপন্ন কুটিরশিল্পগুলিকে বাঁচিয়ে তোলার পরিকল্পনা তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন। শ্রীনিকেতনে কাজ শুরু হওয়ার সময়ে ইলামবাজারের গালাশিল্প প্রায় অবলুপ্ত হয়ে এসেছিল। মূলত রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে, ইলামবাজারের নুড়ি সম্প্রদায়ের দক্ষ গালাশিল্পী গোপাল গুঁইকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসা হয়েছিল। ১৯২২-এ গোপাল গুঁইয়ের বয়স ছিল চোদ্দো বছর। শান্তিনিকেতনে একটি অব্যবহৃত ঘরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিমা দেবীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল গালাশিল্পের কাজ। ১৯২৪-এ শিল্পভবন গড়ে উঠলে গোপাল গুঁই শ্রীনিকেতনে তাঁর শিল্পকর্মের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ শিল্পভবনে গালাশিল্প বিভাগটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নন্দলাল বসুর জামাতা সন্তোষ ভঞ্জ। তাঁর পরিচালনায় সেখানে শুরু হয়েছিল গালাশিল্পের নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা। ফিতে গালা ও ফোঁটা গালার ব্যবহার ইলামবাজারের সাবেকি ঘরানায় শুধু চুড়ি ও খেলনা-পুতুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তাকেই কিছুটা পরিমার্জিত নিপুণতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল ফুলদানি, ধূপদানি, ছাইদানি, নকশাকাটা রেকাবি, নকশি ঝাঁপি, পাউডার কেস প্রভৃতির গায়ে। গোপাল গুঁইয়ের প্রশিক্ষণে উৎসাহী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ছোটো একটি ট্রেনিং-ক্লাসও খোলা হয়েছিল শ্রীনিকেতনে। ১৯২৪ থেকে শুরু করে ১৯৭৩ পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ বছরে শান্তিনিকেতনের দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী গালাশিল্পের ক্লাসে পূর্ণ শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনও শিল্পটিকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়নি। এমনকী, বন্ধ হওয়ার সময়েও দেখা গিয়েছিল, ‘আধুনিক রুচিসম্মত’ হওয়ার কারণে গালার গয়না, পুতুল ও শিল্পসামগ্রীর ‘চাহিদা নিতান্ত নগণ্য ছিল না’। এই সব তথ্যই প্রাজ্ঞ ও দরদি মানুষেরা লিখে রেখে গিয়েছেন উত্তরকালের জন্যে। এর উলটো কোনো বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস মিলছে না বলে ধরেই নিতে হচ্ছে, এ-ই হল আমাদের রূঢ় বাস্তব।

 

ইলামবাজার এখন সমৃদ্ধ গঞ্জ। ২০১১-র সমীক্ষা অনুযায়ী এর জনসংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। এই দশ বছরে তা হয়তো আরও কিছুটা বেড়েছে। এখান থেকে উত্তরে মালদা-বালুরঘাট-রায়গঞ্জ, দক্ষিণে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া-মেদিনীপুরের সঙ্গে বাস-যোগাযোগ সহজ হয়ে এসেছে। বোলপুর অথবা পানাগড় স্টেশন হয়ে রেলপথ হোক বা বাসেই হোক, কলকাতার সঙ্গে এর নিত্য-যাতায়াত। পশুহাট, বালি খাদান, অন-লাইন লটারির খোলা হাওয়া বদলে দিয়েছে ইলামবাজারের অর্থনীতিকে। এই বদলে-যাওয়া প্রকৃতি-পরিবেশে দাঁড়িয়ে শতাধিক বছর আগের গালাশিল্পের ঐতিহ্যকে আজ রূপকথা মনে হবে। কিন্তু, যা যায়, তা বোধহয় একেবারেই যায় না, রেখে যায় তার স্মৃতিচিহ্নটুকু। যেমন শ্রীনিকেতনের কাছে সুরুলের মুসলিম পাড়ায় রয়েছেন ইলামবাজারের গালাশিল্পী অজিত গুঁইয়ের ছাত্র সেখ ইউসুফ আলি। বয়স চল্লিশের কোঠায়। স্ত্রী মমতা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তৈরি করছেন গালার সুদৃশ্য ফুলদানি, প্রদীপ, সিঁদুর কৌটো, আম-জাম-কুল-ডাব আর নানারকম গয়না। তাঁরা পুতুল তৈরি করেন না। সেখ ইউসুফ আলির গালার কাজের নৈপুণ্য দেখলে মনে পড়ে যাবে ইলামবাজারের লুপ্ত ঐতিহ্যের কথা। বীরভূমে, এবং বীরভূমের বাইরেও, কয়েকটি কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ইউসুফ সুনাম অর্জন করেছেন। ২০১৭-র গোড়ায় নৈহাটি থেকে প্রকাশিত, আত্রেয়ী-র (পদবি উল্লেখ নেই, সর্বত্র নামটুকুই আছে) লেখা ‘বৃন্দাবনের গালার পুতুল’ পুস্তিকায় আরও অনেক শিল্পীদের সঙ্গে প্রথমবার উঠে এসেছিল ইউসুফের কথা। ইউসুফের কথা উঠলে তাই এই পুস্তিকাটির কথাও মনে পড়ে। এখন সমাজমাধ্যমে কিছু দরদি মানুষ তাঁকে নিয়ে লিখছেন।

২০২১-এর ৪ থেকে ৭ জানুয়ারি গালাশিল্পের প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজিত হয়েছিল সুরুলে, ইউসুফের বাড়িতে। আগস্টের গোড়ায় সেখানেই হয়ে গেল আরও একটি কর্মশালা। আয়োজক ‘Birbhum Artisani’ নামে একটি সংস্থা। তাঁদেরই ব্যবস্থাপনায় ২০২১-এর ১৩ জানুয়ারি সিউড়ি পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্যে আরও একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেও প্রশিক্ষক ছিলেন সেখ ইউসুফ আলি। বাড়িতে ইউসুফ ও তাঁর স্ত্রী মমতা খাতুন অল্প পরিমাণে গালার শিল্পসামগ্রী তৈরি করেন। বিক্রির সুযোগ স্বল্প, নেই বলেই চলে। শান্তিনিকেতনের হাটে কিছু বিক্রি হয়। বিগত এক বছরের মহামারির বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে তাও বন্ধ। এইভাবে তো জীবনধারণ সম্ভব নয়। তাই সারা বছর চলে তালাই বোনার কাজ, তারের হস্তশিল্প। চাষবাস তো আছেই। আর আছে পথে টোটো চালানোর কাজ। এরই মধ্যে গালাশিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন সেখ ইউসুফ আলি। তাঁর সদিচ্ছা আমাদেরকে আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশ শতকের সত্তরের দশকে গালাশিল্পী অজিত গুঁইকে দেখে অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে আশঙ্কা হয়েছিল, ‘আর কিছুদিনের মধ্যেই শিল্পটি একেবারে লুপ্ত হয়ে যাবে’। একুশ শতকের দুটি দশক অতিক্রম করেও সে-ধারা বেঁচে আছে সেখ ইউসুফ আলিকে কেন্দ্র করে। বংশপরম্পরা যে-শিল্পটিকে রক্ষা করতে পারেনি, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবহেলা আর উপেক্ষা যার বিলুপ্তির পথকে প্রশস্ত করেছে, ছাত্রপরম্পরা সে-শিল্পকে বাঁচিয়েছে। ইউসুফ যে গালাশিল্পী অজিত গুঁইয়ের ছাত্রশিষ্য। অজিত গুঁই ছিলেন ইলামবাজারের ঐতিহ্যবাহী গালাশিল্পের সুখ্যাত শিল্পী গোপাল গুঁইয়ের ভ্রাতুষ্পুত্র— নেপাল গুঁইয়ের পুত্র।

প্রশিক্ষণ শিবর থেকেই হোক, অথবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে, ইউসুফ যদি তাঁর কয়েক জন যোগ্য ছাত্রছাত্রী গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে ঐতিহ্যবাহী এই গালাশিল্পটি হয়তো আরও কিছু কাল তার অস্তিত্বের জানান দিতে পারবে। দুঃসময়েও সেখ ইউসুফ আলির মতো দরদি শিল্পীর গুরুপরম্পরাকে বাঁচিয়ে রাখার এই অদম্য ইচ্ছেকে কুর্নিশ জানাই।

 

পূর্ববর্তী সংখ্যা

পড়তে পারেন:

এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন কবিতা আশ্রমের মুদ্রিত সংখ্যা এবং কবিতা আশ্রম প্রকাশনার বই। নীচের ছবির ওপর ক্লিক করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের অনলাইন সপ পেজে। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমেও অর্ডার করতে পারেন। যোগাযোগ: ৭৩৮৪১৭২৪০৪/ ৯৪৩৪৪৩১৩৬২