সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮
ছবি : সুনীল দাস
রাহুল পুরকায়স্থ
গৌতম বসু যা বলতেন
আমি তো আমার দিকে হেঁটে আসছি
মাঝখানে ছায়া ও মৃত্তিকা,
গর্ভে ধারণ করেছ তাকে
এভাবেই পুনর্জন্ম
আমাদের কবিতাকে ঘিরে রাখে!
শিবাশিস চট্টোপাধ্যায়
নিম্ফোম্যানিয়া
ভিড়ের কবিই হয়তো
হীরে-জহরত পরে তফাৎ চেনায়
কখনও ভেবো না ওরা সকলেই এক
ভেতরে ভেতরে কেউ নিম্ফোম্যানিয়াক
হতে পারে! ওই রোগে
শিশু প্রসবের দায় অন্য কারও ঘাড়ে
ঝেড়ে ফেলে
কবিতায় করে গর্ভপাত…
স্যাকভাঙা জলে থইথই
চিনতে না পেরে শুধু হাবুডুবু খায়
অদীক্ষিত পাঠকের হাতে হাতে বই
ঝুমা গঙ্গোপাধ্যায়
সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ন্যাস
নিঃশব্দে কুড়িয়েছি ঘৃণা, অপমান
শব্দ আর বোধের মাঝে নিশ্চুপ হয়ে বসে থেকেছি,
মেনে নিয়েছি তোমার টানটান নীরবতা
সম্পর্ক স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতির মাঝে
কত কী—রহস্যময় কথামৃত পাক খায়
আমার না করা ভুলগুলোকেও লুকিয়ে ফেলেছি
চুপচাপ
এই তো কেমন বানপ্রস্থ,
এগিয়ে চলেছি
পাপবোধহীন ভালবাসার কঙ্কাল জড়িয়ে
এগিয়ে যেতে যেতে দেখেছি
মৃত সম্পর্কই ভালবাসার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ন্যাস!
রাজীব মৌলিক
গান
কান পেতে শুনি তোমার শুশ্রূষা।
গেয়ে উঠছ ফিতাকৃমির মতো।
আমার পাকস্থলী জুড়ে, হৃদপিণ্ড জুড়ে…
উপশম ইষৎ নীল রঙের আভা।
উবে গেছে উল্কাপিণ্ডের মতো
ফুসফুসের হাওয়ায়।
এখন দাহ আর আমি সঙ্গমরত।
যে বধির তার কবরের পাশে শুনি;
রাখা আছে প্রেমিকজন্মের গান
গান গায় মুয়াজ্জিন।
আমার উপশমরা তাঁর শ্রোতা হয়ে ওঠে
ছবি : সুনীল দাস
নীপবীথি ভৌমিক
অ্যালঝাইমার
জেগে থাকা একটা প্রাচীন বিরহ।
প্রতিদিন ক্ষয়ে যায় পাড়,
প্রতিদিন জেগে ওঠে নতুন চরাচর…
ঘুম তো আশ্চর্য নদী !
সীমাহীন জলরাশি নিয়ে বয়ে যায়
সাদা- সবুজ নুড়ি পাথরের টানে
বিরহ নতুন হয় আবার। বারবার বিষাদ
সুর সাধে সরোদে,
ঘুম ভাঙে প্রাচীন বিরহের
স্বরলিপিতে লেখা সুর কি সব জানে
কার চোখে কখন ঘুম আসে ?
সুমন্ত মুখোপাধ্যায়
দহন
গাছকে খেয়েছে দুপুরের আলো
দিগন্ত রেখার শীর্ণ বনরাজীর
বুক ফাটে কান্নায়।
গোধূলির একচিলতে পঙ্গু মেঘেরা
নির্বাকে দাঁড়িয়ে থাকে।
ধার শোধের পালা শেষ হয়ে গেছে দুর্ভিক্ষে,
তবু ছায়াকে দেখে ভাবে ভালো আছি
ছায়া যে মায়াবিনী !
তিলে তিলে গ্রাস করে জীবনের আলো।
বৈদূর্য্য সরকার
মথুরা বিলের ধারে
এ সেই হারিয়ে যাওয়া যমুনা নামের রূপসী কন্যা
লোককথার নদীটি গতিরুদ্ধ হয়ে বিলে পরিণত,
ত্রিবেণী বন্ধন ছিঁড়ে হারিয়েছে বোন সরস্বতী
মুছে গেছে পাঁচশো বছর ইতিহাসের প্রবাহ,
ঘরছাড়া রাধা দেখা করতে আসেনি তার সাথে
উদাসীন হাইরোড দিয়ে বয়ে গেছে কতকাল।
নদী গতি হারিয়ে ফেললে কেউ গুরুত্ব দেয় না
শুধু চিহ্ন হয়ে রেখে যায় আমাদের ছোট নদী,
হাওয়াবদল হয়ে সময়ের টানে জীবন পাল্টেছে
চোখে বাহারি চশমা চুলে পাক বাজারের থলি
অপরাধ ভঞ্জনের পালা হয়েছিল কতদূর !
গন্তব্য ভুললে মাঝপথে হারিয়ে যায় মানুষ
তাকে ঘিরে ধরে কচুরিপানার মতো কিছু দায় ।
“ঘরের কাছে আরশিনগর”
পর্ব-১
কেঁদুলির তারক দাস বাউল
রামানুজ মুখোপাধ্যায়
ছবি : সুনীল দাস
পূর্ববর্তী সংখ্যা
পড়তে পারেন:
এখন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন কবিতা আশ্রমের মুদ্রিত সংখ্যা এবং কবিতা আশ্রম প্রকাশনার বই। নীচের ছবির ওপর ক্লিক করলে পৌঁছে যাবেন আমাদের অনলাইন সপ পেজে। হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমেও অর্ডার করতে পারেন। যোগাযোগ: ৭৩৮৪১৭২৪০৪/ ৯৪৩৪৪৩১৩৬২