You are currently viewing সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম ১৬৫ সংখ্যা

সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম ১৬৫ সংখ্যা

বিভাস রায়চৌধুরী

মাফিয়ারা কতবার খুন
করেছে আমাকে!

অস্তিত্ব মরেনি

গাছের মতোই জেনো তুমিও অমর,
মৃত্যুর ওপারে যদি
বাংলাভাষা ‘কবি’ বলে ডাকে…


কুমারেশ তেওয়ারী

বাংলা ভাষার দিকে চেয়ে থাকি, কেমন অপাপবিদ্ধ চোখ
সনাতন পাঠশালা থেকে উঠে আসা সহজ শিশুটি!

যেন যে-কোন‌ও সময়, উঠে এসো উদ্দালক, শুনে
উঠে আসবে ভিজে শরীরে, কাদামাখা
শরীরের থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়বে হিরন্ময় অক্ষরের জল

অক্ষরের পাতে তার দৃষ্টিপাত হলে ব্যথার মোচড় ওঠে নাড়িঘরে,
বেজে ওঠে তীব্র ভায়োলিন, বিষাদ সিম্ফনি
কত কত ক্ষতচিহ্ন, উপেক্ষার বেতস চাবুক
আশরীর কতবার তীব্র বেজেছিল
নিশানদিহির মতো ধরে রেখে বুকের গোপনে
কত রক্তচক্ষু ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে এও এক দধীচি বিস্ময়!
আকুল তৃষিত দু’টি চোখ, যেন চায়
প্রজন্মেরা কাছে এসে ঘষে যাক ঠোঁট তার বুকের সেলেটে

চোখের ভেতরে থাক বাসা বেঁধে মুগ্ধ প্রতিচ্ছবি
আঁচলের পাড়ে বসে আরবার
রাধার বিরহ লিখুক সে চণ্ডীদাস কবি


চন্দ্রাণী গোস্বামী

স্বপ্নে তুমি যখন পাখিঘর বলো, গাঢ় করে তোমার মুখে স্তন গুঁজে দিই।

আসলে প্রকৃত বিষাদ তো স্বপ্ন বেয়েই আসে।

নিরাশ্রয় হবার আগে স্বপ্ন বড় স্নিগ্ধ, জানো!
অনুরক্ত মানুষের চোখ খুব করুণ, কান্না ঝরে না কিন্তু তন্তু ছিঁড়ে যায়…

বলেছি, আগামী জন্মে তুমি সন্তান হয়ে এসো—

আঙুলে ধরে দেখাব, যতবার ভালবেসেছি তোমায়
চেয়েছি শরীরে, আর
তোমার শরীরে আনাচ কানাচে প্রেমিক ছাপিয়ে আমার মাতৃসত্তা…

স্বপ্ন কিন্তু পেলব, ভালবাসা তত ভয়ংকর

তোমার আমার মাঝখান বরাবর একটা রাস্তা, ঝটিপাহাড়ি;

রবিবার হাট বসে, তাই অপরাহ্ণের শেষে বড় নিঝুম
একটা মাঝবয়সি মহিলা, পাশেই সমাধি মন্দির, নিবু আলো
মুখ নিচু, কাদের ঘরের ঠিক বোঝা যায় না…

এই না বোঝা, খুব সংক্রামক, জানো নিশ্চয়
অবশ্য জানলেও আজ আর খুব একটা লাভ নেই —

প্রতি বিকেলে একটা ট্রেন ছেড়ে যায় ওই তিস্তার দিকে
এই যাত্রায় মহিলার কোনও উচ্ছ্বাস নেই, যেন সব যাওয়াই
তার কাছে এসে বলে যায় — ঝড় আসছে। আর রক্ষে নেই
শুকনো পাতা উড়বে, ধুলোর স্রোত, চোখ ঝাপসা হবে…
আমি এত পুঙ্খানুপুঙ্খ বলতে পারি না এখন
সকল নিয়ে … তারপরই মনে আসে সর্বনাশের কথা
রাস্তা দিয়ে ঝড় বয়ে যায় — না কি ঝড়টাই রাস্তা!
কবে যে সকল নিয়ে-দিয়ে বসে আছি তোমায়

দিয়েছি। সকল। শুধু তোমাকেই…


বিবেকানন্দ মণ্ডল

বিবেকানন্দ মণ্ডল

আমাদের বাড়ির সামনে বিলমাঠে জলায়
বৃষ্টি নামে পদাবলী কীর্তনের মতো।
জলের উপর বৃষ্টি ফোঁটা দেখে মনে হয়
এই বুঝি পালি-প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভেঙে গড়ে উঠেছে
বাংলার স্বর…ব্যঞ্জন।

পাশাপাশি বসে পরস্পর হাত বাড়িয়ে
রচনা করছে পদ।

নেচে নেচে উঠছে ভাষা আমার–
ধ্রুপদী ছন্দে দ্বিপদী গান।


অমিত সাহা

অমিত সাহা

বাংলা ভাষা যে ধ্রুপদী, এই সত্য আমি জানি।
না, কোনও গভীর পড়াশোনা করিনি,
শুধু শুনশান ঋতকে দেখেছি।
সাদা ফ্যাকাশে পাতায় নয়,
সবুজ পাতায় ওর বাংলা ভাষার স্বপ্ন ঘোরে,
চাঁদ দেখে দেখে রাত কাটে বিস্ময়ের জোরে।
বিস্ময়ের চেয়ে বড় ধ্রুপদী কি হয় ?
ঋতর অবাক আনে জীবনের জয়…

ঋতর চোখের জ্যোৎস্নামাখানো বাংলা ভাষা
কতটা ধ্রুপদী আমি জানি।
বুকের ভেতরে হাহুতাশ ওঠে
বাংলা কথা ফোটেনি যে ঋতর ঠোঁটে!
কেউ তো বোঝে না ওকে, শুধুই জিজ্ঞাসা
শারীরিক ইশারায় শুধু বাংলা-ভালবাসা…
ঋতর অতলে গিয়ে টের পাই রোজ
ফোঁপানো ঠোঁটের অভিমান কতটা সহজ!
যা কিছু সহজ ও সহজাত তাই ধ্রুপদী
চুপি চুপি বলে গেছে
ঋতর গভীরে বেয়ে চলা ছটফটে বাংলানদী!


কনক মণ্ডল

কনক মণ্ডল


পথ করে দাও জল, পথের অরণ্যে।
বৈচিত্র মাখিয়ে দাও মরণে মরণে।
তুমি আরও নিচু করে আমার চিবুক
তুলে ধরো। সোজা হয়ে পথ খুঁজি।

হেরে যাচ্ছি! হেরে যাওয়া জেদের দিব্যি তোমাকে বলি—
এই তৈল মাখানো ঘুটঘুটে রাত
ফুল ফোটানোর দায় ভুলে গেছে…

জল, তুমি আরও এসে
খসখসে বাঁকানো মনে
গতি দাও রাত্রি-যুদ্ধ শেষে।


গড়িয়ে যেতাম যদি পথে পথে ঢাল
আর আঁকাবাঁকা জল নক্ষত্রের মতো
দিব্য জেগে এক হয়ে যেত।

শোনো, আমি হেরে যাচ্ছি!
হেরে যাওয়ার কসম, তোমাকে পেলেই
রাক্ষসী ফসলে আমি কিছু কিছু বীজ
সন্তানের মতো রেখে যাব।


বঙ্কিম লেট

বঙ্কিম লেট

নদী পেরোতে গেলেই তোমার কাহিনি মনে পড়ে
মুখ থেকে চওড়া হাসি খুলে যাওয়া বিবরের মতো
নৌকা পড়ে আছে পারে। শুধু একটা পাখি এসে হাত ধরে,
ছপ ছপ দাঁড় টেনে নিয়ে যায় বিস্তীর্ণ আকাশে


ধানোচ্ছ্বাসে ভরা মাঠ। তখন ফুলের কথা মনে পড়ে
ধানের শুভ্র কুসুম। তখন গন্ধের কথা মনে পড়ে
নক্ষত্রের পাপড়ি থেকে যেমন সুগন্ধ, ভেসে এসে
সমাহিত হতে থাকে লাইফবয় সাবানে, আর
গভীর রাত্রিতে আমি তোমার উন্মুক্ত চুল থেকে ঘ্রাণ নিই


ঘামে ভিজে উড়ে যাই ঝড়ের পাতার মতো, ধাক্কা খাই
স্তব্ধ সবুজ শার্সিতে। তারপর ঝমঝম বৃষ্টি নামে
অদৃশ্য হওয়ার পর তোমাকে দেখায় রামধনুর মতো


কুমার চক্রবর্তী

গ্রিক কবি আরিস আলেজান্দ্রাউ-এর কবিতা

প্রতিটি ভোর আর প্রত্যেকটি সন্ধ্যায়
আমি কুড়োই আকাশের তাল তাল সোনা
আর আমার ঠিকঠাক এবং সত্যিকার চেহারাসহ
আমার মুখচিত্রে তাদের সেঁটে দিই।
আমার স্বাধীনতা সোনার মতো মূল্যবান কিন্তু বিকোয় না কারও কাছেই;
প্রতিটি রাতেই আমি
শোধ করি আমার অস্থায়ী কবরের মূল্য।

উপযুক্ত ইস্পাত একটি ধারালো ছুরিতে পরিণত হতে যতটা সময় নেয়
শব্দরাও তেমনই সময় নেয় কথা হয়ে উঠতে।
ইত্যবসরে
যতক্ষণ তুমি চাকা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজে লেগে থাকো
সাবধান, আবেগে ভেসে যেয়ো না, মুগ্ধ হয়ে যেয়ো না
ঝলকানির অভিনব পরিণামে।
তোমার লক্ষ্য তো ছুরি হয়ে ওঠা।


গত রাতে সবকিছুই ছিল বেশ চমৎকার—
উপলখণ্ডের ওপর সমুদ্র কেলাসিত হয়ে হয়ে
লবণ হয়ে গিয়েছিল
মেঘেরা আকাশের ওপর কেলাসিত হয়ে হয়ে
নক্ষত্র হয়ে গিয়েছিল
আমাদের নৈঃশব্দ্য এখানে কেলাসিত হয়ে হয়ে
একটি চুম্বন হয়ে গিয়েছিল।
গত রাতে সবই ছিল বেশ চমৎকার
শুধু একটি বিষয় ছাড়া যে, এ সবই একটু দেরিতে এসেছিল
এমন একজনের মতো যে যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যাওয়ার পর
তার ল্যান্স করপোরাল পদে পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তিটি জারি হয়েছিল।