সৈকত ঘোষ
রিয়ালিটিশো
একজন অন্ধ মানুষ তাজমহল দেখলে যা যা হতে পারে:
ইঁদুর এবং বেড়াল নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের আগেই
তাজমহল হয়ে যেতে পারে শহীদ মিনার। শাহজাহানের
জায়গায় বড়ো বড়ো করে ছাপা হতে পারে হুব্বা
গণেশের নাম। স্লিপিংপিল হাতে যে মেয়েটি আত্মহত্যা
করবে ভেবেছিল কিংবা যে ছেলেটি প্রশ্ন কমন না
পাওয়ায় উঠে এসেছিল পরীক্ষা হল থেকে তারা
দুজনেই পেয়ে যাবে কবিরত্ন সম্মান। ঘাস ও
বাঁশ নিয়ে লেখা হবে শয়ে শয়ে যুগান্তকারী কবিতা।
আমরা শিরদাঁড়ার কথা বলবো, চে গুয়েভারা টি-শার্ট পরবো।
সুষুম্না সংলাপ থেকে জেগে ওঠবে অন্ধকারের গাছ।
ফেসবুক বলছে বাংলা কবিতা আবার গর্ভবতী হবে।
দেয়ালে দেয়ালে ছেয়ে যাবে সদ্য লেখা পদ্য।
কাটমানির টাকায় কবিদানব হয়ে উঠবেন বুলেট পঞ্চু।
দাঁতহীন সাপেদের সংরক্ষণ চালু হবে অক্ষরবৃত্তে।
সময়কে ভিজিটিং কার্ডে খোদাই করে
দেবে না খেতে পাওয়া মানুষের কবিতা।
সেলফি উপনিষদ, ঈশপস ফেবেল থেকে
ধার করে আনবে রাজমুকুট। পুরস্কার মঞ্চে
ততক্ষনে খেলা জমিয়ে দিয়েছেন সানি লিওন।
জীবন আসলে ছেঁড়া ফাটা, জীবন আসলে
সেলাই করা ভালোবাসার জুতো
ওহে বাংলা কবিতার উত্তমকুমার
তোমার শরীরে কোনও দাগ নেই, ধুলোমাটি
নেই, তোমার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে না,
তুমি কখনও পিঁপড়ের ডিম খাও নি, অনশন করার অভিজ্ঞতাও নেই,
এই সিভি নিয়ে কি করে তুমি বাংলা কবিতার মুখ হয়ে উঠবে?
এসব ভাবতেই ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতে হেসে ওঠেন সিলভিয়া প্ল্যাথ।
বাসের পাদানিতে বাড়ি ফেরে জংধরা হাওড়া-শিয়ালদা।
ধর্মতলার মোড়ে লাথখোর পাগলটা জানে
কবিতা লিখে আল্টিমেটলি এ সমাজের কিছুই ছেঁড়া যাবে না।
সুতরাং কে কাকে কখন কীভাবে এসব প্রশ্ন অবান্তর
পুতুল নাচের শহরে মানুষ ইতিহাস জানতে চায় না।
কোপারনিকাস ভুল ছিলেন না, বিজয় মালিয়াও নয়
কবিদের দৃষ্টি ফিরে এলে বিধবা হয়ে যাবে সাদা কাগজ…