পম্পা দেব

খেলা

 

একদিন লাভা রাখি, একদিন  থুতু জিহ্বায়

একদিন ঘৃণা  রাখি, একদিন বমনেচ্ছায়

বহুদিন রাজা সাজা খেলা,

বহুদূর পথ হাঁটা নিজেরই ছায়ার ভয়ে

আর ভয় ততোধিক পা ফেলেছে আমার

হৃদয়ে  ।

স্বপ্নের ভেতর, আগুনের ভেতর,

বৃষ্টির ভেতর, স্রোতের ভেতর

আমি হামাগুড়ি আমি দাসত্ব দাস ,

আমি মাঝরাস্তার ফড়ে, অঙ্কের ত্রাস  ,

আমি কিশোর বেলার পথভুল,

দূরের পাড়ার ফেরিওয়ালা,

একদিন সমুদ্র সৈকত থেকে মোহনার কাছে ঋণী

একদিন পাকদণ্ডী থেকে খাদের ধারে ধোঁয়া

একদিন সরলমতী স্বভাব দিগন্তচিল

একদিন ধূলো কাদা মাখা বেপরোয়া

আমার কাছেই ছিল কবেকার আঁধার সজল

আমার কাছেই ছিল মুক্তি ও শেকলের গান

আমার কাছেই ছিল রেডিওতে সাদাকালো দিন

আমার কাছেই ছিল ইচ্ছেরা , সোহাগ সম্বল

অথচ উপড়েছি নিজেরই লজ্জা ও গাথা

শানিত নখের বিষে ভরিয়েছি আকুল বালিশ

রেখেছি মাথার পাশে ছোট ছোট কথা নীচু মন

কোরাস ধ্বনির গায়ে হাতিয়ার, দলাদলি, বিষ

পতাকাতে রাঙিয়েছি আমারই অভিলাষী  ভুল

রাস্তাকে বানিয়েছি নজিরবিহীন ভাবে দল

শব্দের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি সংকেত

ফুল দিয়ে ঝড় আঁকি বুকের ভেতরে কার্তুজ

আমিই  সে, রোজ যে   হীনমন্যতায়

আমিই সে, কথার চাতুরী মজ্জাগত

আমিই সে, গোপনে চাবুক চালায়

আমিই সে, আজ্ঞাবহ নিজ শর্ত মত

একদিন অভিসার একদিন ব্রতচারী আমি

একদিন অভিশাপ একদিন শাপমুক্তি আমি

আমাকেই দিতে হবে চাওয়া আর পাওয়ার হিসেব

আমাকেই দিতে হবে মুখ আর মুখোশের নীচে

ঢেকে রাখা যত চোখ কাজল কালির মত মেঘ

চরাচর পার হয়ে ফেরে যারা এই বিশ্বাসে ।