সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম, ৩০ আশ্বিন ১৪২৮
সকলকে জানাই শারদীয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা
ছবি: চন্দন মিশ্র
দিশারী মুখোপাধ্যায়
রতি
রতি আর আকুল হয় না মদনের জন্য। মদনের প্রদ্যুম্ন-জন্ম
তাই আজ প্রয়োজনহীন। অ্যাপসের মাধ্যমে তার প্রয়োজন
নির্বাহ হয়। পারমাণবিক গঠন আর রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী
উত্তেজনা। ধর্ষক-ভালবাসা বিক্রি হয়। পেগ পরিমাপে সেবন দরকার।
রতি আর রতিপতির বাড়ি আলাদা আলাদা। এক রতি হরমোন
প্রযুক্ত হলেই বাড়ির সকল রহস্যে বসন্ত লেগে যায়। বাড়ি কোনো
ঠিকানা পরিচায়ক গুগল-বিন্দু নয়। অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশে তাকে
চিহ্নিত করা যায় না।
এক রতি পরিমাণ রতির প্রয়োগেই সুফল লাভ করা যায়।
লভ্যাংশ নির্দিষ্ট করা এবং একাউন্টে জমা করার সুব্যবস্থা
এখন আধার নম্বর দিলেই পাওয়া যায়। অথচ নির্বোধ রাস্তা
এখনও বাড়ির ঠিকানা খুঁজে খুঁজে আকুল।
বিবেকানন্দ মণ্ডল
নিরাকার সঙ্গমে এসো
ধ্রুব
পুনর্জন্ম
সুরজিৎ পোদ্দার
তিনটে চাঁদ
প্রসূন ঘোষাল
ভরসার প্রথম পাত্র
জয়া বসাক
দৃষ্টিহীন
মানস চক্রবর্ত্তী
ইহজন্ম হোক স্বয়ম্ভু
এসো অরুণিতা
উদাসী রমণ আজ তোমার হোক
যে শিশির মরে যায় সকালে
তার স্মৃতি স্মরণ করো না আর।
বিস্ময়ে প্রশ্ন করো না,
ফুলের দেশে তার কেন যাওয়া হল না!
মন খারাপে রেখো না ইতিহাস
প্রচ্ছদে রেখো না প্রশয়
ইহজন্ম হোক স্বয়ম্ভু।
বঙ্কিমকুমার বর্মন
মেঘপালক
অবেলার বেলা ঘোরে একা একা শরতের মাঠে
তারও একখানি ভাসে এই পুকুরের জলে
আঁখি জুড়ে ছুঁয়ে আছে সে জলের শরম
কেবা রাখে খোঁজ কার—
যেন পাকা ফসলের বিভূতি পরিণাম
জাগে চোখে চোখে ওই গৃহস্থালি উঠোন
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু খুঁদকুড়ো অভিমান
দুয়ারে দুয়ারে নিভৃতে মেঘপালকের তিন ফসলি অভিযান।
উমা মাহাতো
ডিজিটালাইজড
পলক ফেলার আগেই শক্ত হয়ে উঠবে শিরা-উপশিরা। দিব্যচোখের নীচে উজান স্রোত। গল্পের বই অলস দুপুরে ভিজবে না আর কোনোদিন। মৃত গাছেদের শীতল অন্তঃপ্রবাহ আর দাউদাউ ছাই এক হবে না। যেটুকু পৃথিবী গড়ে উঠেছিল সাম্যের,
দীর্ঘ লিপি আর ভাষার অবসরেই বই হয়েছিল তা।
আইপ্যাডে শুকিয়ে এলে দৃষ্টি
কথাদের অন্ধত্বও সয়ে যাবে সেদিন।
২
আশ্বিনের নাতিদীর্ঘ রাত্রিই ভুল বানানের অনলাইন জার্নাল। সামাজিক মাধ্যম তার অনুসারী হবে দ্রুত। কুয়াশা হেমন্তের মতো দুয়ারে দাঁড়াবে। বিস্তৃত বন্যার বুকে দশমীর চাঁদ। উৎসবের দিনে মস্তি ও মজা কবেই ঢুকেছে অজুহাতে, অবহেলায়।
পরবর্তী শোকের বাৎসরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এখনই লিখে রাখা ভাল।
৩
ছুটি পেয়ে ছুটছি।
সবুজের কূল-কিনারা নেই।
আমি হারাতে চাই, সঙ্গের বালকটি হারিয়ে যায়। আমি বর্ণান্ধ। বনের বহুমুখী রং চেনে সে। পথে পড়ে থাকে একাকী সংকেত।
ভ্রমণে আগ্রহী পেইণ্টিং অ্যাপ।