সকলকে জানাই শারদীয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা

ছবি: চন্দন মিশ্র

দিশারী মুখোপাধ্যায়

রতি

রতি আর আকুল হয় না মদনের জন্য। মদনের প্রদ্যুম্ন-জন্ম
তাই আজ প্রয়োজনহীন। অ্যাপসের মাধ্যমে তার প্রয়োজন
নির্বাহ হয়। পারমাণবিক গঠন আর রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী
উত্তেজনা। ধর্ষক-ভালবাসা বিক্রি হয়। পেগ পরিমাপে সেবন দরকার।

রতি আর রতিপতির বাড়ি আলাদা আলাদা। এক রতি হরমোন
প্রযুক্ত হলেই বাড়ির সকল রহস্যে বসন্ত লেগে যায়। বাড়ি কোনো
ঠিকানা পরিচায়ক গুগল-বিন্দু নয়। অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশে তাকে
চিহ্নিত করা যায় না।

এক রতি পরিমাণ রতির প্রয়োগেই সুফল লাভ করা যায়।
লভ্যাংশ নির্দিষ্ট করা এবং একাউন্টে জমা করার সুব্যবস্থা
এখন আধার নম্বর দিলেই পাওয়া যায়। অথচ নির্বোধ রাস্তা
এখনও বাড়ির ঠিকানা খুঁজে খুঁজে আকুল।

 

 

বিবেকানন্দ মণ্ডল

নিরাকার সঙ্গমে এসো

নির্জন ঘর পেলেই আমি
নিঃশ্বাসে আর দীর্ঘশ্বাসে ঘরময় আঁধার ভরে নিয়ে
শামুকের মতো উলঙ্গ হ‌ই…
 
কল্পনাতেও তুমি এই যোগে যোগ কষে
বিয়োগের ভাবনা এনো না ।
আমার এই নির্জনতাকে;
উলঙ্গ সাধনাকে 
বিনষ্ট কোরো না
তোমার রূপময় মুখোচ্ছবি এঁকে —
 
পারো তো নিরাকার সঙ্গমে এসো ।

ধ্রুব

পুনর্জন্ম

হাত বাড়ালেই যে অমাবস‍্যা পাই
সেখানে আমার পুনর্জন্ম হয়
এইভাবে বারবার জন্ম নিতে নিতে
আমি নিজেই ভুলে যাই 
আমার প্রথম জন্মের অস্তিত্ব
 
যে জন্মে চাঁদ নামে কোনো বস্তু
আমাকে ছোবল মেরে গিয়েছিল

সুরজিৎ পোদ্দার

তিনটে চাঁদ

আমাদের তিনটে থালা
যেন তিনটে চাঁদ, লাল মেঝে
তিনটে থালা ঘোরে, সাথে নুন,
ভাত, ডাল, আলু … সেও ঘোরে
 
ঘুরতে ঘুরতে দ্বিধাগ্রস্ত ভাত
মাঝে ডাল বয়ে যায়
বয়ে যায় লাল মেঝে, ধমনী শিরায়
 
আমাদের তিনটে চাঁদ
তিন দিকে ঘোরে
তিন দিকে ছ্যাঁকা খায়, রুটি দুই দিকে পোড়ে 
 
আমরা ঘুরতে ঘুরতে 
অপেক্ষা করি না আর
শুধু ছ্যাঁকা খাই, লাল মেঝে যেন 
অর্ধনিমজ্জিত পতাকা, শোকাতুর দেহ
 
শুধু তিনটে চাঁদ ঘুরতে থাকে
সাথে ভাত, ডাল, নুন…

প্রসূন ঘোষাল

ভরসার প্রথম পাত্র

আমার তো বসে থাকার অবসর নাই
যেহেতু আমি সংসারী, পায়রার সাদা পালকের
নিচে ওম খুঁজতে খুঁজতে যথেষ্ট সময় 
চলে যাচ্ছে। 
খাটের চারপায়ার মতো সেজে উঠেছি
নতুন একটা মানুষ। সামনের দু’পা আর পিছনের
দু’পা সহযোগে এই তৈলাক্ত বাড়িতে
কয়েকটা মানুষের সামনে —-
 
মুখের থুতনি তুলে ধরে কর্তব্য নামক বস্তুটা মেনে চলছি…
 
পাখির মুখেতে থাকা দানা হঠাৎ পড়ে যাওয়ায়
এই বাড়িটার গায়ে সংসারের রব উঠেছিল।
সকালে সাদা রোদের ঝাপটা আর
সন্ধ্যায় চাঁদের আলিস্যি ভাঙা মনের দিকে তাকিয়ে
 
কয়েকটা মানুষের ভরসার প্রথম পাত্র হয়ে উঠলাম। 

জয়া বসাক

দৃষ্টিহীন

তাকিয়ে ছিলে বলে…
তার তাকানো বারণ।
 
রুদ্ধপথ..!
দেখে, আধভাঙা বিচারের কথা মনে পড়ে যায়
নির্লিপ্ত কথাদের ঘাম
শব্দগুলোকে স্পর্শ করা  হয়নি কখনও
তুমি তাকিয়েছিলে বলে
তার তাকানো বারণ।
 
বৃদ্ধপথ…!
দেখে, মনে পড়ে শুকিয়ে যাওয়া মুকুলের কথা
অন্তর্দৃষ্টি দেয়নি প্রভু!!!
সব হারাদের গোপন
তুমি তাকিয়েছিলে বলে
তার তাকানো বারণ।
 
 

মানস চক্রবর্ত্তী

ইহজন্ম হোক স্বয়ম্ভু

এসো অরুণিতা
উদাসী রমণ আজ তোমার হোক
যে শিশির মরে যায় সকালে
তার স্মৃতি স্মরণ করো না আর।
বিস্ময়ে প্রশ্ন করো না,
ফুলের দেশে তার কেন যাওয়া হল না!


মন খারাপে রেখো না ইতিহাস
প্রচ্ছদে রেখো না প্রশয়
ইহজন্ম হোক স্বয়ম্ভু।

 

বঙ্কিমকুমার বর্মন

মেঘপালক

অবেলার বেলা ঘোরে একা একা শরতের মাঠে
তারও একখানি ভাসে এই পুকুরের জলে
আঁখি জুড়ে ছুঁয়ে আছে সে জলের শরম
কেবা রাখে খোঁজ কার—
যেন পাকা ফসলের বিভূতি পরিণাম
জাগে চোখে চোখে ওই গৃহস্থালি উঠোন
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু খুঁদকুড়ো অভিমান
দুয়ারে দুয়ারে নিভৃতে মেঘপালকের তিন ফসলি অভিযান।

 

উমা মাহাতো

ডিজিটালাইজড

পলক ফেলার আগেই শক্ত হয়ে উঠবে শিরা-উপশিরা। দিব্যচোখের নীচে উজান স্রোত। গল্পের বই অলস দুপুরে ভিজবে না আর কোনোদিন। মৃত গাছেদের শীতল অন্তঃপ্রবাহ আর দাউদাউ ছাই এক হবে না। যেটুকু পৃথিবী গড়ে উঠেছিল সাম্যের,
দীর্ঘ লিপি আর ভাষার অবসরেই বই হয়েছিল তা।

আইপ্যাডে শুকিয়ে এলে দৃষ্টি
কথাদের অন্ধত্বও সয়ে যাবে সেদিন।

২
আশ্বিনের নাতিদীর্ঘ রাত্রিই ভুল বানানের অনলাইন জার্নাল। সামাজিক মাধ্যম তার অনুসারী হবে দ্রুত। কুয়াশা হেমন্তের মতো দুয়ারে দাঁড়াবে। বিস্তৃত বন্যার বুকে দশমীর চাঁদ। উৎসবের দিনে মস্তি ও মজা কবেই ঢুকেছে অজুহাতে, অবহেলায়।

পরবর্তী শোকের বাৎসরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এখনই লিখে রাখা ভাল।

৩
ছুটি পেয়ে ছুটছি।
সবুজের কূল-কিনারা নেই।
আমি হারাতে চাই, সঙ্গের বালকটি হারিয়ে যায়। আমি বর্ণান্ধ। বনের বহুমুখী রং চেনে সে। পথে পড়ে থাকে একাকী সংকেত।

ভ্রমণে আগ্রহী পেইণ্টিং অ্যাপ।

ছবি: চন্দন মিশ্র

পূর্ববর্তী সংখ্যা