আমাদের প্রিয় কবি মলয় গোস্বামী নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো অনর্গল কবিতা রচনা করবার মতো ব্যথা ও সারল্যে বাস করেন এখন। তুমুল ছন্দদক্ষ এই কবি অতীতে বাস্তবতা ও পরাবাস্তবতার অলৌকিক সেতু নির্মাণ করে প্রসিদ্ধ। যদিও বৈষম্যে ভরা সমাজে প্রবল আত্মসম্মান-জ্ঞান-সম্পন্ন এই কবির যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। যাহোক, এসব কবিতার বিষয় নয়, সমাজ-সংসারের বিষয়। কবি তাঁর কবিজন্মের পরিণত রেণু ছড়িয়ে দিয়েছেন এই নতুন কবিতাগুচ্ছে। আলতো করে বলা, তাই গভীরে গিয়ে লাগে।
বিভাস রায়চৌধুরী
কবিতা আশ্রম

মলয় গোস্বামীর কবিতা
সকালে
সকালে উঠে হাই তুলে দেখেছি
মুখ থেকে মেঘ বের হয়
একথা কেউ বিশ্বাস করবে না
ছোট মেঘ
বাচ্চাদের মতন মেঘ উড়ে যায় …
ঘর
আর আমার ঘর
চারদিকে ঘর
ঘরে ঘরে ভর্তি হয়ে গেছে সব
তুমি এসব লক্ষ তো করোনি …
সেইসব ঘরে মানুষেরা থাকে
অনেকদিন ধরে তারা বানায় ঘর
ঘরে ঘরে জানলা খেলা করে
আমি দেখি বহুদূর খেলা করে চিল …
তুমি
তোমার কানের পাশের দুটো চুল সাদা হয়ে গেছে
করুণ শাঁখের মতো সাদা
তবুও দাঁড়িয়ে থাকি…
পৃথিবীর প্রথম অক্ষর নিয়ে ভেবে চলি
তুমি দেখি রান্নাঘরে গ্যাসের সামনে
তার ওপাশে জানালা
জানালার ওপারে আকাশ …
পারি না
সেইসব ছবির ওপর দিয়ে
বাজার করতে যাওয়া গৃহীর মতন
সময় চলে গেছে —
পাথরের সময় সব
আমি নাড়াতে পারি না।
বিকেলের কথা
বিকেলে খুব হেঁটেছি উড়নচণ্ডীর মতন
যশোর রোডের পাশে গিয়ে
ওপরে তাকিয়ে দেখেছি
আকাশে তুমি আছ
সারেগামা নেই—
জানো, রাস্তায় বড় বড় অনেক গাছ নেই
যেমন বহুদিন আগে
তোমার ফর্সা হাতে
অনেক সোনার চুড়ি ছিল তারপরে নেই, বিক্রি হয়ে গেছে…
তেমন…
মতো
“চলো, ঘরে চলো”
বলো তুমি— হাত ধরো
ঠান্ডা গানের মতো হাত
আচ্ছা, মাধববাবু … তার বোন সোমা
বলব না তোমাকে একবারও
ধুলোর বীণার মতো তোমার গলা
শুনি
ছাদের কোনায় চলে যাই …
বিশ্বাস
বিশ্বাস করবে না কেউ
গান গাইতে গিয়ে দেখি
মুখ দিয়ে তারা আর অলকানন্দা বেরিয়ে পড়ছে …
খেলাধুলো
কত কিছু বলা হল, বলো ?
তোমার ঠোঁট দেখি
ওষুধের কথা মনে হয়
আমার মুখের ভেতর
আকাশের যত খেলাধুলা …
