প্রশান্ত দত্ত
দু–একটা কবিতা
দু-একটা কবিতার লাইন
লিখতে চেয়েছি সারাটি জীবন
যেগুলো লিখেছি আর যা হোক
সেগুলোকে কবিতা বলা চলে না
পাঁচশো কবিতা মর্গে সাজানো থরে থরে নতজানু
গলা পচা কবিতার শরীরগুলো থেকে
লোভ আর খ্যাতির দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে ধু-ধু
কীভাবে ? কোথায় সেগুলোর সৎকার হবে এখন
দু-একটা কবিতা লিখব মন
দু একটা কবিতা আমার
অপেক্ষায় আছে ত্রিশ বছর
কয়েকটা লাইন লেখা হয়নি আজও
কৃত্তিবাস কবিতা আশ্রম দেশে আমার বর্ণমালাতেও
কবিতাগুলো সবাই এখন আদিদর পাঞ্জাবিতে মেশে
শান্তিনিকেতনি ব্যাগে ভীষণ লুকিয়ে তাকায়
কোলাপুরিতে তারা ভর করে হেঁটে বেড়ায় নিভাঁজ
নন্দন কবিতা আকাডেমি শিশিরমঞ্চ মাচায়
কবিতারা কেউ কেউ এগরোল আর বার্গার চেবায় কায়দাবাজ
কায়দা করে ফেসবুকে লাইক আর কমেন্ট কুড়োয় বারবার
কবিতারা ঘুরপাক খায় গান্ধী নোটের চারধার
দু-একটা কবিতা লিখব এখন
কবিতা লিখব মেঘের পাতায় চিরকালীন
কয়েকটা কবিতা হবে, কবিতারই তো লাইন
এমন কবিতা চুপচাপ ডায়েরির কোণে
নয়ানজুলির মতো একা পড়ে থাকবে একানে
রোদ-বৃষ্টি-ঘামের গন্ধ জড়িয়ে থাকবে গায়ে
এমন কবিতা লিখতে চাই ধার যেন আঁশবটি খান
নিখুঁত ফালাফালা শত কবিদের কবিতার ডায়েরি
কবিতার প্রার্থনা হেঁটে যাবে গরম ভাতের থালায় সটান
প্রণামের মতো উঠে দাঁড়াবে মাটির গন্ধ মাখা সায়রি
মৃত্যুর খুব কাছে অন্ধকারে আছে দু-একটি কবিতা এমন
তাই আমি আলোর বাইরে যাই কবিতা কুড়োতে
তাই আমি আমার বাইরে যাই কবিতা কুড়োতে
দু-একটা কবিতা লিখব এবার।