প্রদীপ কর
গরামথান
পুরোনো তেঁতুলবৃক্ষের তলে কবেকার গরামথান।
ভাঙাভাঙা পড়ে আছে পোড়ামাটির হাতিঘোড়াদেব।
অবনত কান্নার ভূমিষ্ঠ নিবেদন নেই।
শেষ পৌষের শূন্যবাতাস শিরশির করে কাঁপে আর
ঝিরিঝিরি ঝরে পড়ে হলদে তেঁতুলের থিরিথিরি পাতা,
সেইখানে, যেখানে, ভক্তের পদধূলি মাটিতে মিশেছে।
ভীতিভক্তি কাহিনির অপূর্ণতা থেকে পথ পেরিয়ে
পথ পেরিয়ে জন্মান্তরে পৌঁছে গেছে বিপন্ন পাঠক।
একটি টিট্টির ডাকে নিঃসঙ্গ বিকেল যখন গ্রামসীমা
পার হয়ে যায় আর তার উদাসীন স্বরের ছায়ায়,
নির্জন নক্ষত্রের কাঁপা কাঁপা ইশারাআলোয় ছড়িয়ে
নামে সন্ধ্যা, তার অল্পক্ষণ পরই, ছমছমে হিমঅন্ধকারে,
ঠিক জেগে উঠবেন ধর্মঠাকুর। প্রিয় জ্যোৎস্নারঙের ঘোড়ার
পিঠে গ্রাম প্রদক্ষিণে বেরোবেন তিনি।
আধুনিক অবিশ্বাসে ঠিকমতো ঠাহর যায়না তাকে।
একদিন, এরকমই, গ্রামরক্ষায় টহলে গেছেন আর
অধর্ম জাঁকিয়ে এসে বসেছে ধর্মথানে। ঢাকে ঢোলে বাদ্যে
ধোঁয়ায় পরদিন থেকেই জাগ্রত হয়ে উঠেছে গরামথান।
মানতের রক্তে পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে মাটি। মোচ্ছবে মাতোয়ারা গ্রাম।
ধর্মঠাকুরের ধবল ঘোড়াটি শুধু বিশ্বাসীর চৈতন্যে মাঝেমাঝে চিঁহি শব্দে ডাকে।