সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
PAINTINGS:JACKSON POLLOCK
অমিত দে
মাধুকরী
সৌরভ লায়েক
উৎসব হোক আমাদের
মৌসুমী রায়
কাকতাড়ুয়া
নিরালম্ব কাকতাড়ুয়াটি এখনও…
ধ্রুব
চলমান বালিয়াড়ি
মন খারাপ হলে বিকেল বেলায় বাড়ীর কাছে
নিথর দীঘিটার পাড়ে গিয়ে বসি
কিনারায় আসা মাছেদের সঙ্গে কথা বলি
কথা ফুরিয়ে গেলে জলে পাথর ছুঁড়ি
প্রতিটি তরঙ্গের জন্ম থেকে মৃত্যুর
প্রত্যক্ষদর্শী একমাত্র আমিই
ছুঁড়তে ছুঁড়তে একসময় আমার আশে-পাশের
সমস্ত পাথর
ফুরিয়ে যায়
তখন
পদ্মকুঁড়ির বুকে ভ্রমরেরা ঘুমিয়ে পড়ে
শুরু হয় বাতাসে বাতাসে
শঙ্খধ্বনির দোলনযাত্রা
দীঘির জলে বর্ষীয়ান সন্ধ্যাতারার
প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে
তাকে লক্ষ্য করে এক দিকভ্রান্ত নাবিক
সমুদ্রের বুকে দূর থেকে দূরে ভেসে যায়
তার কোনও আশা নেই– ক্লান্তি নেই– গন্তব্য নেই
দু-চোখে শুধুই চলমান বালিয়াড়ি…
অনিকেশ দাশগুপ্ত
বুনন
ভাসমান
PAINTINGS:JACKSON POLLOCK
“পথের ফসল”
অমৃতাভ দে
পর্ব-৫
ইছামতী তীরে ছায়াঘেরা সেই বাড়ি
তোমার কথাই বলছে আপন মনে
তুমি হেঁটে যাও রাতের অন্ধকারে
কান পেতে পথ তোমার গল্প শোনে।
বিভূতিভূষণ, তোমার ঘরেই বসে
পথের পাঁচালী শুনব নতুন স্বরে
তুমি বলে যাবে ভানুমতীদের কথা
উঠোনের গায়ে ফুল কত ঝরে পড়ে।
কুড়িয়ে নিলাম যত ফুল ঝরেছিল
আজও তুমি সেই অরণ্য ভালোবাসো
আমরা সবাই উপড়ে ফেলেছি স্মৃতি
তবু তুমি কেন বারবার ফিরে আসো
ইছামতী তীরে ছায়াঘেরা সেই বাড়ি
তোমার কথাই বলছে আপন মনে
আমরা এসেছি শরৎ মেঘের মতো
বিভূতিভূষণ, তোমার ঘরের কোণে…
এক অন্যরকমের অনুভূতি ছিল…ষষ্ঠীর সকাল, কলাবৌ স্নান করাতে নিয়ে এসেছেন ইছামতীতে…ঢাক বাজছে…বাতাসে পুজোর গন্ধ…শরতের সেই সকালে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্মৃতির রেখা’য় গিয়েছিলাম আমরা… বিভূতিভূষণের গ্রামে, বনগ্রাম, বারাকপুরে (উত্তর চব্বিশ পরগণা)…ইছামতী নদী, সেতু, অরণ্য, পথ সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি… মনে হচ্ছিল শরতের সকালে তাঁর সঙ্গে দেখা হবে আমাদের…
আমি গিয়েছিলাম কোনও এক ষষ্ঠীর সকালে। তালাবন্ধ অবস্থায় দেখে কোথায় সেই চাবি খুঁজতে খুঁজতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একবার করে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। সে সময় কেয়ারটেকার ছিল না। একজন নির্দিষ্ট সময় তালা খুলে দেবার কোনও লোক তখন নেই। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। এসেও দেখতে পাব না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। রাস্তা দিয়ে আখ নিয়ে যাচ্ছিলেন একজন। আখ কিনে তা খেতে শুরু করলাম। পথ দিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন তাঁদের জিজ্ঞাসা করছি এ বাড়ির চাবি কার কাছে থাকতে পারে। অদ্ভুত এক কৌতূহল মনের মধ্যে। বেশ খানিকটা পরে একজন বললেন এই বাড়ির দু-একটা বাড়ি পরেই যে বাড়ি রয়েছে তাঁদের কাছে চাবি থাকতে পারে। আমরা গেলাম বিশেষ অনুরোধ করলাম। ওঁরা বললেন এখন দেখানোর কেউ নেই বাড়ি খুলে। অনেক দূর থেকে এসেছি এবং আজ এই বাড়িটা দেখব বলেই এসেছি-এই বলে অনেক কাকুতি-মিনতি পরে চাবি দিলেন, আমাদের হাতেই। সে এক অদ্ভুত শিহরণ তখন সারা শরীরে। আমরা তখন কিছুক্ষণের জন্য দুই বন্ধু ওই বাড়ির অধিকারী হয়ে উঠলাম। কি বলব সেদিনের সেই মুহূর্তের কথা… যেন নিজের বড় আপন জনের বাড়িতে প্রবেশ করেছি…. ঘুরে ঘুরে দেখছি আর স্পর্শ পাচ্ছি বিভূতিভূষণের। ঘরের জানলা খুলে দেওয়া দরজা খুলে দেওয়া… আলো এসে পড়ছে ঘরের ভিতরে… লেখার জায়গা বসবার জায়গা ছুঁয়ে থাকলাম কিছু সময়। ঘরে দেওয়া ছিল আলপনা… ছিল বেশ কিছু ছবি… ভিতরের দিকে ছোট্ট একটি ঘর আমার কাছে লেগেছিল রহস্যঘন… এমন এক স্রষ্টার গৃহে কিছু সময়ের জন্য নিভৃতে কাটানোর সুযোগ হয়েছিল আমাদের। তারপর একা করে জানালাগুলো বন্ধ করে দেওয়া, দরজা বন্ধ করে চাবি লাগানো, বাড়ির চারপাশের গাছগাছালির ভিতর দিয়ে হেটে যাওয়া… যথাসময়ে চাবিটি আবার সেই বাড়িতেই বাড়িতেই ফিরিয়ে দেওয়া। তারপর ইছামতীতে কলাবউয়ের স্নান দেখা, ঢাকের আওয়াজ শোনা, নৌকো করে ভেসে যাওয়া, সাঁকো পেরিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়া…