সাপ্তাহিক কবিতা আশ্রম, ৯ মাঘ ১৪২৮

কবিতা আশ্রম প্রকাশনার বই। বাড়িতে বসে সংগ্রহ করতে চাইলে কভারে ক্লিক করুন।

গৌতম হাজরা

দ্বন্দ্বে প্রতিদিন

সময় কঠিন বড়ো দ্বন্দ্বে প্রতিদিন
কেটে যায় অগোছালো ঝরাপাতা হয়ে
বিষণ্ণ চাঁদের মুখ? সেও দেখি ফিকে হয়ে যায়
খরস্রোতা নদী জলে পাথর অতলে
জীবন স্রোতের মতন ছলছল জোয়ার ভাটায়
আঁকে সুখ আঁকে দুখ কখনও বা নিভে নিভে যায়
তবুও বিমূর্ত পথে গাণিতিক জটিল নিয়মে
দ্বন্দ্বে ভাঙি বেড়াজাল জীবন যেথায়!

সুব্রত চক্রবর্তী

ঘুলঘুলি

সামান্য খড়কুটো সহযোগে কিচিরমিচির সাজিয়ে দিয়েছ পাতে
আর তাতেই ভরে উঠল প্রহর
সকাল থেকে দুপুর থেকে বিকেল আমার অক্ষরগুলো
বেঁচে রইল শুধু তোমার জন্যে
ঘরে বাইরে সন্ধি হয়ে বসে রইলে সারাক্ষণ
আকাশ খুব সন্তর্পনে উঁকি দিল
আলো কয়েকটি বিচিত্র রং শর ছুঁড়ে দিল
বাতাস এল যেন নাসারন্ধ্রে হামাগুড়ি দিয়ে
তারপর একে একে সুর তাল লয় উঁকিপথ বেয়ে
ঢুকে পড়ল ঘরের ভিতরে আর
কিভাবে শুকনো সেই বালির উপরে তারা ঢেউ তুলে
উচ্ছ্বসিত স্নান সেরে নিল সে ভারি রোমাঞ্চকর !

তুমি নিষ্পলক চেয়েই রইলে সারাক্ষণ
আর আমি বইয়ের পৃষ্ঠার ভাঁজে ভাঁজে গোপন চিরকূটের মতো
জমিয়ে রাখলাম তোমার প্রত্যহগুলি

 

অবশেষ দাস

পাইন রঙের শাড়ি

বুকের ভেতর কে বলো তো? ধবধবে চাঁদ চেয়ে
অনেক খোঁজাখুঁজির শেষে হৃদয় গেছি পেয়ে!

বললে না তো কী পরিচয়, প্রথম কবে এলে
আমার ভেতর তোমার জন্যে আকাশ দেখতে পেলে?

চুপটি কেন‌? কিসের দ্বিধা বুকের তাপে তাপে
তোমার মতো জরিপ করে শূন্যতা কে মাপে।

আমার চোখে হাসনুহানা, তোমার চোখের মায়া
পঞ্চবটী পায়রা ওড়ে প্রাচীন কোনো ছায়া।

বুকের ভেতর চলকে ওঠে, দোল খেয়ে সে হাসে
চুপটি করে বসছে দেখি, শরত ঋতুর পাশে।

প্রশ্নের পরে প্রশ্ন শানায়, উদ্বেগে হয়রানি
অনেক কিছু চুপিসারে এড়িয়ে যেতে জানি।

সামনে দেখি পথ তো খোলা। ভিন্ন অভিমুখে
মান-অভিমান কৃষ্ণচূড়া তৃষ্ণা কাতর বুকে।

মেঘ সরে যায়। গল্পগুলো সাজায় একা বসে
বাতাস দাঁড়ায়, আগুন নেভে। দুর্গম আক্রোশে।

প্রশ্নমালার দাপাদাপি, কোথা থেকে এলে
শূন্য বুকে সাহস করে গঙ্গা দিলে জ্বেলে।

স্তব্ধ কাতর বিচলিত, সামনে হিমের বাড়ি
বুকের ভেতর আধখানা চাঁদ, পাইন রঙের শাড়ি।

সৌরভ লায়েক

কলসপত্রী

তবুও ব্যর্থ হই বারংবার
ভালবাসা এমনি নিঃসাড়

সন্দেহ করো বুঝি ওগো শ্যামাঙ্গী তরী?
বন্ধুরা যেতে চেয়েছিল নিয়ে নিষিদ্ধ নগরী

এই পঁচিশের দিন যাইনি তো সংযম হারিয়ে
ভেবেছে নপুংশক হেসেছে তারিয়ে তারিয়ে

ধোঁয়াময় ঘর, ঘরময় রঙিন গেলাসে ঢেউ
ভয় কী আমিই আসামী হলাম না ছুঁয়েও

তবুও ব্যর্থ হই বারবার, অস্তমিত ভয়
এ শরীর অপার্থিব জানি। বিলোবার নয়

 

বন্যা লোহার

যোগসূত্র

বুক পেতে দিই

এই শীতকাল আমাকে দাও
এই কুয়াশা, একটি দুটি পথিক
এই ক্রমশ দীর্ঘ পথ ও পথের পাশে
গাছেদের নিথর দাঁড়িয়ে থাকা
আমাকে দাও

চরাচরে শুধু
তোমার হাসির মতো আলো

আমার অন্তর ছাড়া
মহাবিশ্বে আর কোথাও কোনও বিষাদ
অবশিষ্ট রইল না

অরণ্যে প্রতিধ্বনি হয়

জন্মান্তরের বিশ্রাম ভেঙে
পাখিরা প্রসন্ন ডেকে ওঠে

এই তো তোমার খবর পাচ্ছি

 

কবিতা আশ্রম প্রকাশনার বই। বাড়িতে বসে সংগ্রহ করতে চাইলে কভারে ক্লিক করুন।

পূর্ববর্তী সংখ্যা